লেখক অর্থনীতিবিদ মাহফুজুর রহমান আর নেই

বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য অর্থনীতিবিদ মাহফুজুর রহমান আর নেই। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার বেলা আড়াইটায় নিউ ইয়র্কের নর্থশোর ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

জাতিসংঘে অর্থনীতিবিদ হিসেবে চাকরি করে অবসরে যাওয়া ৮২ বছর বয়সী মাহফুজের ছয় মাস আগে ক্যান্সার ধরা পড়ে।

ম্যানহাটনের একটি হাসপাতালে কয়েকটি কেমো থেরাপি নেওয়ার পর ফের অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ২ নভেম্বর থেকে মাহফুজুর রহমান নর্থশোর ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী ফরিদা রহমান।

নওগাঁর সন্তান মাহফুজের মৃত্যুর সময় স্ত্রী ছাড়াও ছেলে শাফিকুর রহমান অঞ্জন এবং মেয়ে হাসপাতালে ছিলেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে বাদ জোহর তার জানাজা হবে। পরে বিকেলেই নিউ ইয়র্ক সিটি সংলগ্ন লং আইল্যান্ডে ওয়াশিংটন মেমোরিয়াল হাসপাতালের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

লেখক মাহফুজুর রহমানের চিকিৎসার খোঁজ-খবর রাখতেন স্থানীয় সাপ্তাহিক বাঙালির সম্পাদক কৌশিক আহমেদ।

তিনি বলেন, ছয় মাস আগে ড. মাহফুজের ক্যান্সার ধরা পড়লে ম্যানহাটনের মাউন্টশিনাই হাসপাতালে তিনটি কেমো নেন। চতুর্থ কেমোর জন্য নর্থশোরের হাসপাতালে যান তিনি।

সে সময় চিকিৎসকরা ড. মাহফুজের শরীর কেমো নিতে চাচ্ছে না জানালে ২ নভেম্বরই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে নিউ ইয়র্কের মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও কর্ণধার বিশ্বজিৎ সাহা জানান, গত বছরের মে মাসে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত ‘২৬তম একুশে গ্রন্থমেলা’র উদ্বোধক ছিলেন সাহিত্যিক মাহফুজুর রহমান।

২০১৩ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান ‘অটোবায়োগ্রাফি এবং ভ্রমণকাহিনী’ বইয়ের জন্য।

১৯৫৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স করার পর ১৯৬৬ সালে ফের একই বিষয়ে ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নেন মাহফুজ। ১৯৭৩ সালে অর্থনীতিতে পিএইচডি করেছেন রোটারডেমে অবস্থিত নেদারল্যান্ড স্কুল অব ইকনোমিক্স থেকে।

পাকিস্তান পরিকল্পনা কমিশন এবং সদ্য-স্বাধীন বাংলাদেশের পরিকল্পনা কমিশনেও চাকরি করেছেন মাহফুজ। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অর্থনীতিবিদ হিসেবে চাকরি শুরু করেন ১৯৭৬ সালে। ১৯৯৫ সালে তিনি জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ হিসেবে জাতিসংঘ থেকে অবসর নেন।

এরপর বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতির আলোকে এবং সমসাময়িক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বেশ কিছু বই লেখেন ড. মাহফুজ। এর অন্যতম হচ্ছে ‘খোদা হাফেজ ভার্সেস আল্লাহ হাফেজ’, ‘কত ঘরে দিলে ঠাঁই’, ‘বাংলার ফুল’, ‘অসুবিধা নাই’, লজ্ঝা আরেকবার, ‘আরজ আলী মাতব্বর’, ‘র‌্যাবের হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে কিছু বলা উচিত’, ‘সহিংসতা, সন্ত্রাস এবং ইসলাম’ ইত্যাদি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *