শপথ নিলেন তিন মন্ত্রী ও এক প্রতিমন্ত্রী

সরকারের শেষ বছরে আকার বাড়ল মন্ত্রিসভার। বর্তমান মন্ত্রিসভায় নতুন করে যুক্ত হলেন তিনজন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রী। এঁদের মধ্য একজন প্রতিমন্ত্রী পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হলেন।

পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মোস্তাফা জব্বার ও লক্ষ্মীপুরের সাংসদ এ কে এম শাহজাহান কামাল। আর রাজবাড়ীর সাংসদ কাজী কেরামত আলী প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই চারজনকে শপথ পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

এর আগে সোমবার দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম তাঁদের ফোন করে শপথ নিতে বঙ্গভবনে যাওয়ার আহ্বান জানান।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. ছায়েদুল হকের মৃত্যুতে এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পদটি শূন্য রয়েছে। নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হতে পারেন।

আচমকা মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী বছর শুরু করে ফেলল সরকার। মঙ্গলবার শপথ নেওয়া চারজনের মধ্য তিনজনই নতুন মুখ। রাজনৈতিকভাবেও তাঁরা অনেকটা অচেনা। এই চারজন যুক্ত হলে মন্ত্রিসভার সদস্য হবেন প্রধানমন্ত্রীসহ ৫৪ জন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া পূর্ণমন্ত্রী ৩৩ জন, প্রতিমন্ত্রী ১৮ জন এবং উপমন্ত্রী ২ জন। এ ছাড়া মন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা আছেন ছয়জন। এর বাইরে এইচ এম এরশাদ মন্ত্রী পদমর্যাদায় বিশেষ দূত।

নতুন ডাক পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এখন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁকে একই মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
ক্ষমতাসীন দলের সূত্র জানায়, বর্তমান মন্ত্রিসভায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কেউ পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্বে নেই। এ জন্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দকে মন্ত্রী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার সাংসদ নন, ফলে তাঁকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী করা হয়েছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে কোনো মন্ত্রী নেই। ডাক ও টেলিযোগাযোগে তারানা হালিম ও তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ দায়িত্ব পালন করছেন। মোস্তাফা জব্বারকে এগুলোর মধ্যে কোনো একটি মন্ত্রণালয়ে যুক্ত করা হতে পারে। আবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান হলেও সেখানে প্রতিমন্ত্রী পদে কাউকে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকার যেসব উদ্যোগ নেয়, এর প্রায় সব কটির সঙ্গেই মোস্তাফা জব্বার সম্পৃক্ত ছিলেন। জাতীয় সম্প্রচার আইন, অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালাসহ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিভিন্ন আইন প্রণয়ন ও নীতিমালা তৈরির লক্ষ্যে গঠিত কমিটিতে তিনি সদস্য ছিলেন।

নতুন ডাক পাওয়া শাহজাহান কামাল লক্ষ্মীপুর সদর আসনের সাংসদ। জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। ১৯৭৩ সালে প্রথম সাংসদ নির্বাচিত হন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির বর্তমান সভাপতি এ এস এম মাকসুদ কামালের বড় ভাই।

এ ছাড়া রাজবাড়ী সদর ও গোয়ালন্দের সাংসদ কাজী কেরামত আলী সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। চারবারের সাংসদ, তিনবারই নির্বাচিত।
দলীয় সূত্র জানায়, এই দুই জেলা থেকে কখনোই আওয়ামী লীগের কেউ মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হননি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের মেয়াদ প্রায় চার বছর পূর্ণ করেছে।

২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি শপথ নেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের ২৯ মন্ত্রী, ১৭ প্রতিমন্ত্রী ও ২ উপমন্ত্রী। এই মন্ত্রিসভায় জাতীয় পার্টির ৩ জন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ও জাসদের ১ জন করে স্থান পান। ওই বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রথম দফায় মন্ত্রিসভার কলেবর বৃদ্ধি পায়। শপথ নেন এ এইচ মাহমুদ আলী ও নজরুল ইসলাম। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে হজ নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করে বাদ পড়েন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।
পরের বছরের ১৪ জুলাই মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ করে নুরুল ইসলাম বিএসসিকে যুক্ত করা হয়। পদোন্নতি পেয়ে মন্ত্রী হন ইয়াফেস ওসমান ও আসাদুজ্জামান খান। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারানা হালিম ও নুরুজ্জামান আহমেদ। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে সরিয়ে স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব দেওয়া হয় খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে। প্রথমে সৈয়দ আশরাফকে দপ্তরবিহীন, পরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *