শাম্মী হত্যা মামলা তদন্তে গাফিলতি: এসআই নওশেরকে তলব

রাজধানীর কল্যাণপুরে স্বামীর অমানবিক নির্যাতনে নিহত শামিমা লাইলা আরজুমান্না খান শাম্মী হত্যা মামলার তদন্তে গাফিলতির কারণে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মিরপুর মডেল থানার এসআই নওশের আলীকে তলব করেছেন হাইকোর্ট।

এ পুলিশ কর্মকর্তাকে আগামী ২১ নভেম্বর সশরীরে হাজির হয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ব্যাখ্যা করতেও বলেছেন আদালত।

দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত রিপোর্ট নজরে আনার পর মঙ্গলবার বিচারপতি এম  ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি শহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন।

গত ৪ নভেম্বর দৈনিক যুগান্তরে ‘গৃহবধূ শাম্মী হত্যা মামলা : মাকে বাবা অনেক কষ্ট দিয়ে মেরেছে : তদন্ত কর্মকর্তার গড়িমসির অভিযোগ’ শীর্ষক রিপোর্ট প্রকাশিত হয়।

এ রিপোর্টটি আদালতের নজরে আনেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান। এর পর আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে তলবের আদেশ দেন।

উল্লেখ্য, গত ৭ জুন রাতে রাজধানীর কল্যাণপুরে ভাড়া বাসায় একটি বায়িং হাউসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন টিটু তার স্ত্রী শামিমা লাইলা আরজুমান্না খান শাম্মীকে অমানবিক নির্যাতন করে হত্যা করে। পরে চিকিৎসার নামে হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর ছোট ভাই মো. ফরহাদ হোসেন খান বাবু বাদী হয়ে ৮ জুন মিরপুর মডেল থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ ঘাতক স্বামী আলমগীর ও তার তৃতীয় স্ত্রী ইসরাত জাহান মুক্তাকে গ্রেফতার করে।

অভিযোগ উঠেছে, আলোচিত এ মামলার তদন্ত নিয়ে গড়িমসি করছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার এসআই মো. নওশের আলী।

মামলার বাদী মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, ঢাকায় অবস্থানরত আসামির ধনাঢ্য ভগ্নিপতি মো. আবদুল বাছেদ অর্থের মাধ্যমে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পরিবর্তন এবং মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহে কাজ করছেন। আর তাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নওশের আলী প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে ঘাতক আসামির পক্ষে ভূমিকা রাখছেন।

তিনি জানান, এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠার পরই শিশু আরিয়ান ও তার ছোট ভাই দেড় বছরের অ্যারনের জীবন বাঁচাতে তাদের ঢাকা থেকে নানাবাড়ি ময়মনসিংহে নিয়ে যান।

বাদী মো. ফরহাদের অভিযোগ, তদন্তকারী কর্মকর্তাকে অনেক চাপাচাপি করার পরও তিনি ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী শিশু আরিয়ান ও গাড়ির ড্রাইভারকে সাক্ষী হিসেবে থানা কিংবা আদালতে জবানবন্দি নিতে অনীহা প্রকাশ করছিলেন। শেষ পর্যন্ত এ ব্যাপারে আদালতে আবেদন করলে ৮ আগস্ট আরিয়ানের জবানবন্দি নেয়া হয়।

পরে আদালত ঘটনার পরোক্ষ সাক্ষী ড্রাইভার মো. কামাল হোসেনেরও ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেয়ার আদেশ দেন। কিন্তু সাক্ষী হিসেবে ড্রাইভারের জবানবন্দি নেয়ার প্রয়োজন নেই বলে বাদীপক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী খন্দকার মহিবুল হাসান আপেল ও মো. লুৎফর রহমান খানকে জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা।

আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, ১৬৪ ধারায় আদালতে শিশুর জবানবন্দি দেয়ার পর নিয়মানুযায়ী ঘাতক বাবাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে সত্যতা যাচাইয়ের প্রয়োজন থাকলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা তা এড়িয়ে যান। এ ছাড়া নিহতের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট কিংবা মামলার চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে রহস্যজনক কারণে বাদীকে অন্ধকারে রাখছেন তদন্ত কর্মকর্তা নওশের আলী।

মামলার বাদী মো. ফরহাদ জানান, এসব কারণে ন্যায়বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়ায় তিনি মামলাটি র‌্যাব কিংবা পিবিআইকে দিয়ে তদন্ত করানোর দাবি জানিয়েছেন। এ ছাড়া তার আশঙ্কা, মামলার আসামি ভগ্নিপতি মো. আলমগীর হোসেন টিটু জামিনে মুক্তি পেয়ে ঘটনার সাক্ষী শিশুপুত্র আরিয়ানকে গুম করতে পারেন।

তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নওশের আলীর সঙ্গে ৩ নভেম্বর বিকালে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বাদী পক্ষের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে এ সময় প্রশ্ন করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষ সাক্ষী শিশু আরিয়ান ও ড্রাইভার মো. কামালের জবানবন্দি নিয়ে টালবাহানার বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares