শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাস প্রত্যাখ্যান, চলবে অনশন

শিক্ষামন্ত্রীর দেওয়া আশ্বাস প্রত্যাখ্যান করে আমরণ অনশনরত নন এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিন দিনের মাথায় আমরণ অনশনরত শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছে যান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তাঁদের এমপিওভুক্ত করা হবে বলে আশ্বাস দেন। তবে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়া দেওয়া এই আশ্বাস প্রত্যাখ্যান করেন শিক্ষকেরা।

আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার পর ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আমরণ অনশনরত শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছে যান শিক্ষামন্ত্রী। সঙ্গে ছিলেন, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

অনশনরত শিক্ষক-কর্মচারীদের উদ্দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইন বক্তব্য দেন। এরপর শিক্ষামন্ত্রী বক্তব্য দেন। এমপিওভুক্ত করার জন্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে রোজই চাপ দিয়ে যাচ্ছিলেন বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত দেড়টা পর্যন্ত অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছিলেন বলেও জানান।

শিক্ষকদের শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অর্থমন্ত্রী আজ বিদেশে গেছেন। যাওয়ার প্রাক্কালেও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়ার জন্য তিনি তাঁকে চাপ দিয়েছেন। যাঁরা এমপিওভুক্ত নন তাঁদের এমপিওভুক্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে সম্মতি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। নীতিমালার আলোকে বিষয়টি বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান। এমপিওভুক্তির দাবি পূরণ করা হবে বলে শিক্ষক-কর্মচারীদের আশ্বাস দেন শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসের সময় এমপিওভুক্তির জন্য সুনির্দিষ্ট সময় চেয়ে স্লোগান দিতে থাকেন শিক্ষকেরা। তখনো শিক্ষামন্ত্রী বলতে থাকেন, ‘এমপিওভুক্ত করে দেওয়া হবে। আশা করছি, আপনারা আর কষ্ট করবেন না।’

তখন শিক্ষকেরা বলেন, ‘স্যার ঘোষণা দেন। অনেকবার বলেছেন।’ এই পর্যায়ে শিক্ষামন্ত্রী বক্তব্য শেষ করেন। শিক্ষকেরা তখন ‘মানি না, মানি না’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। এ অবস্থাতেই শিক্ষামন্ত্রী চলে যান।

ননএমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিনয় ভূষণ রায় এরপর বক্তব্য দেন। শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করার কথা জানান। আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ছাড়া তাঁরা কোনো কিছুই মানবেন না। প্রধানমন্ত্রীর বার্তা না নিয়ে তাঁরা বাড়ি ফিরবেন না। অনশন চলবে।

স্বীকৃতপ্রাপ্ত সব মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির দাবিতে গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন নন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। গত রোববার থেকে তাঁরা একই দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেন।

আমরণ অনশনের দ্বিতীয় দিনে গতকাল সোমবার অসুস্থ হয়ে পড়েন ১৩ জন নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী। তাঁদের মধ্যে ছয়জন বিকেল পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। আন্দোলনকারী শিক্ষকেরা বলছেন, এবার দাবি পূরণ ছাড়া তাঁরা ঘরে ফিরবেন না, প্রয়োজনে আত্মাহুতি দেবেন। তবে গতকাল পর্যন্ত সরকার থেকে কোনো সাড়া পাননি এসব শিক্ষক।

নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের ডাকে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের মাসে বেতন-ভাতা বাবদ সরকারি অংশ দেওয়া হয়, সেগুলোকে এমপিওভুক্ত বলা হয়। আর যেগুলো এমপিওভুক্ত নয়, সেগুলোর শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকার থেকে কোনো আর্থিক সুবিধা পান না। এগুলোকে সংক্ষেপে নন-এমপিও বলা হয়।

#prothom alo

Leave a Reply