শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ সমাধান নয়: জাফর ইকবাল

পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস রোধে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ সঠিক সমাধান নয় বলে মনে করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। তিনি বলেন, প্রশ্ন ফাঁসের মূল কারণ উদঘাটন করে এর সমাধান করাটাই সব চেয়ে বেশি প্রয়োজন।

বুধবার সকালে সিলেটের মিরের ময়দানে বিশ্ব বেতার দিবস অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

গত কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে সমালোচনায় পড়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। এবার এসএসসি পরীক্ষার আগে শিক্ষামন্ত্রী নানা ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিলেও তিনি প্রশ্ন ফাঁস রোধে ব্যর্থ হয়েছেন। এ পর্যন্ত যে কয়েকটি পরীক্ষা হয়েছে সেগুলোর প্রশ্ন পরীক্ষা শুরুর আগেই ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে এসেছে।

আবার পরীক্ষা শুরুর আগে মন্ত্রী বলেছিলেন, প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ উঠলেই তিনি সে পরীক্ষা বাতিল করবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা বাতিল হয়নি।

প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করতে না পারায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্ত্রীকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। এসব যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করা অনেকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। এমনটি জাতীয় সংসদেও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের পদত্যাগের দাবি করা হয়। মন্ত্রী পদত্যাগ না করলে তাকে বরখাস্ত করে নতুন মন্ত্রী নিয়োগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

কিন্তু বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ জাফর ইকবাল মন্ত্রীর পদত্যাগের পক্ষে নন। তিনি মনে করেন, ‘শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এর সঠিক সমাধান নয়। প্রশ্ন ফাঁসের মূল কারণ উদঘাটন করে এর সমাধান করাটাই সব চেয়ে বেশি প্রয়োজন।’

জাফর ইকবাল বলেন, ‘কিভাবে প্রশ্ন ফাঁস রোধ করা যায়, সে বিষয়ে ভাবতে হবে-দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। যারা প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত তাদের শাস্তি দিতে হবে।’ প্রয়োজনে বিজি প্রেসে প্রশ্ন না ছাপিয়ে বিকল্প উপায়ে প্রশ্ন ছাপানোর ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দেন জাফর ইকবাল।

এ সময় প্রশ্ন ফাঁস রোধে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে বাধা দিতে পরীক্ষা শুরুর সময় আড়াই ঘণ্টা ইন্টারনেট বন্ধ রাখতে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছিল তার সমালোচনা করেন জাফর ইকবাল।

বিশিষ্ট এই শিক্ষাবিদ বলেন, ‘এভাবে প্রশ্ন ফাঁস চলতে থাকলে এদেশে শিক্ষার কোনো গুরুত্ব থাকবে না। সরকারকে এগুলো বন্ধ করতে হবে। প্রশ্নফাঁস নিয়ে আমি শহীদ মিনারে বৃষ্টিতে ভিজে আন্দোলন করেছি, তখন প্রশ্ন ফাঁসের কথা স্বীকারও করা হয়নি। এখন স্বীকার করা হচ্ছে। কিন্তু কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।’

ঢাকাটাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *