শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান শেষ: থাই গুহায় আটকেপড়া সবাই উদ্ধার

থাইল্যান্ডের পাহাড়ের গুহায় আটকেপড়া সকল কিশোর ফুটবলার ও তাদের কোচকে উদ্ধার করা হয়েছে। আজ কোচ ও চার কিশোর ফুটবলারকে গুহা থেকে নিরাপদে বের করে আনে ডুবুরিরা। তিনদিনের রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযানে সবার শেষে বের করে আনা হয় ২৫ বছর বয়সী কোচকে।

আজ (মঙ্গলবার) স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ১০টায় উদ্ধার অভিযানে নামে উদ্ধারকারী দল। একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, নবম ও দশম ও একাদশ কিশোরকে ৩০ মিনিটের ব্যবধানে গুহা থেকে উদ্ধার করে আনা হয়। এরপর কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় কোচসহ বাকি দুজনকে উদ্ধার করা হয়।

আজ উদ্ধার হওয়া পাঁচজনকে গুহার প্রবেশমুখ থেকে অ্যাম্বুলেন্সে পাশের ফিল্ড হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন চিকিৎসকেরা। এরপর হেলিকপ্টারে চিয়াং রাই শহরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আগের দুই দিনে উদ্ধার হওয়া আট কিশোরও ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।

উদ্ধার হওয়া কিশোর ও কোচকে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেয়া হয়

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া ফুটবলার ও তাদের কোচ সুস্থ আছেন। তাদের খেতে দেয়া হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া কিশোরদের স্বজনরা হাসপাতালে গেলে এখনো তাদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পাননি।

উদ্ধার অভিযানের দায়িত্বে থাকা থাই নেভি সিল ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে বলছে, গুহায় আটকেপড়া সবাইকে উদ্ধার করা হয়েছে। অসাধারণ এবং কষ্টদায়ক এই অভিযান শেষ হওয়ায় সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছে নেভি সিল।

এর আগে রোববার ও গতকাল (সোমবার) মোট আটজনকে থাম লুয়াং গুহা থেকে উদ্ধার করা হয়। পুরো উদ্ধার অভিযানে ৯০ জনের একটি ডুবুরি দল কাজ করে। তাদের মধ্যে ৪০ জন থাইল্যান্ডের, বাকিরা বিদেশি।

গত ২৩ জুন কিশোর ফুটবলাররা প্র্যাকটিস করতে গুহার পাশের ন্যাশনাল পার্কে গিয়েছিল। সঙ্গে ছিলেন তাদের ২৫ বছর বয়সী কোচ। ফুটবল খেলা শেষে গুহাটি পরিদর্শনে ঢুকেছিল তারা। কিন্তু তারা এর মধ্যে ঢোকার পর প্রবল বর্ষণ শুরু হয় যার ফলে তাদের ফেরার পথ বৃষ্টির পানিতে বন্ধ হয়ে যায়।

১২ কিশোর ও তাদের কোচ

এসব কিশোরকে নিরাপদে বের করে আনতে কয়েক মাস সময় লাগবে বলে প্রথমে ধারণা করা হলেও সামনে বর্ষা মওসুম থাকায় গুহার ভেতরের পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে যেতে পারে ধরে নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাদেরকে বের করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। রোববার (০৮ জুলাই) স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে শুরু হয় উদ্ধার অভিযান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *