শ্রীলংকায় ৮ আত্মঘাতী জঙ্গির ছবি প্রকাশ

শ্রীলঙ্কায় হামলার দায় স্বীকার করেছে আইসিস বা আইএস। হামলার আগে ভিডিও ফুটেজে দেখানো হয়েছে, হামলাকারীরা দলের নেতা আবু বকর আল-বাগদাদীর কাছে আনুগত্যের শপথ নিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, শ্রীলংকায় জঙ্গি হামলার নায়কদের নাম প্রকাশ করেই থেমে থাকেনি তারা। ওই আট সদস্যের ছবিও প্রকাশ করেছে। তাদের কমান্ডো ভাই বলে উল্লেখ করেছে আইএস।

এদিকে ভিডিওতে দেখানো হয়েছে ৮ জন হামলাকারী দাঁড়িয়ে রয়েছে। এর পর তারা একে অন্যের হাত ধরে আনুগত্যের শপথ নেয়।

শ্রীলংকায় হামলাকারী আইএস জঙ্গিরা হলো- জাহরান হাশিম, আবু হামজা, আবু ওবায়দা, আবু আল মুক্তার, আবু খলিল, আবু আল বাররা, আবু মুহাম্মদ ও আবু আবদুল্লাহ। তারা সবাই আইএসের পতাকার সামনে দাঁড়িয়ে ফ্রেমবন্দি হয়েছেন। পরে হামলার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে উগ্রপন্থী ধর্মীয় নেতা জাহরান হাশিমের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।

আইএস বলছে, তিনিই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী। তবে তার পাশে থাকা অন্য ছয়জনের মুখ কাপড়ে ঢেকে দেয়া রয়েছে। তাদের মধ্যে আবু ওবায়দা, আবু আল বাররা ও আবু আল মুক্তার বিলাসবহুল হোটেল- সেংগ্রি লা, সিনামোন গ্র্যান্ড ও কিংসবেরি হোটেলে হামলা চালায়।

এ ছাড়া আইএস জঙ্গি- আবু হামজা, আবু খলিল ও আবু মোহাম্মদ কলম্বো, নেগম্বো ও বেটিকালোয়া শহরে গির্জায় হামলা চালায়। অপর সহযোগী আবু আব্দুল্লাহ কলম্বোর শহরতলিতে তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যা করে।

উল্লেখ্য, সরাসরি দায়ী না করলেও শ্রীলঙ্কা তাওহিদজামাতকে সন্দেহের তালিকায় থেকে তদন্ত শুরু করেছিল। ভিডিওর পাশাপাশি প্রকাশিত স্থিরচিত্রে থাকা একজনকে তাদের শীর্ষ নেতা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে একই মাধ্যম ব্যবহার করে হামলার দায় স্বীকার করে আইএস। পশ্চিমা বিশ্ব যখন তাদের খেলাফতের অবসান ঘোষণা করেছে, ঠিক তার কিছুদিনের মাথায় এভাবে সরব হতে দেখা গেল তাদের।

রবিবার (২১ এপ্রিল) খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ইস্টার সানডে উদযাপনকালে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো ও তার আশপাশের তিনটি গির্জা ও তিনটি হোটেলসহ আটটি স্থানে বিস্ফোরক দিয়ে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৫৯ জনের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। আহত হয়েছে ৫০০ জনেরও বেশি।

মঙ্গলবার কোনও প্রমাণ ছাড়াই ‘আমাক’-এ সিরিজ বোমা হামলার দায় স্বীকার করে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। এর কিছু সময়ের মাথায় শ্রীলঙ্কার হামলাকারী পরিচয় দিয়ে তাদের নেতা বাগদাদির কাছে ৮ ব্যক্তির আনুগত্যের শপথ নেওয়ার ভিডিও প্রকাশ করে তারা।

বাগদাদি বিগত ৫ বছর জনসম্মুখে আসেনি।২০১৭ সালের জুন মাসে রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওলেগ সিলোমলোটভ বলেছিলেন, মে মাসের শেষদিকে সিরিয়ার রাকা শহরের কাছে রাশিয়ার বিমান হামলায় ‘খুব সম্ভবত’ বাগদাদি নিহত হয়েছেন। এছাড়া, লন্ডনভিত্তিক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস সিরিয়ায় তাদের নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে বাগদাদির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছিল।