সংসদীয় কমিটিকে পাত্তা দিল না ওয়াসা পরিচালক তাকসিম

ঢাকা ওয়াসার নেওয়া প্রকল্পগুলোর কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতীয় সংসদের অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত কমিটি।

আজ বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে ওয়াসাকে ডাকা হলেও সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান বৈঠকে উপস্থিত হননি। ওয়াসার পক্ষ থেকে কেউ আসেওনি। এ নিয়েও সংসদীয় কমিটি ক্ষোভ প্রকাশ করে।

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগের কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীর গতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কমিটি।

সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা ওয়াসার প্রকল্পগুলোর কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক না হওয়া এবং ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বৈঠকে উপস্থিত না হওয়ায় কমিটি ক্ষোভ প্রকাশ করে। বৈঠকে ঢাকায় সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ঢাকা সিটি করপোরেশনের মতো ঢাকা উত্তর ওয়াসা এবং ঢাকা দক্ষিণ ওয়াসা গঠন করার সুপারিশ করা হয়।

বৈঠক সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন সংস্থাগুলোর প্রকল্প নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। বৈঠকে জানানো হয়, স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন বিভিন্ন সংস্থার ২৭৩টি প্রকল্প চলছে। এর মধ্যে ঢাকা ওয়াসার প্রকল্প আছে ১১ টি, যার ছয়টি প্রকল্পের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। গত বছরের এপ্রিলে নেওয়া মাণ্ডা খাল খনন প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। ঢাকা এনভায়রনমেন্টালি সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্পটি নেওয়া হয় ২০১৩ সালের অক্টোবরে। এই বছরের ডিসেম্বরে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত ওই প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ১৯ শতাংশ। ২০১৬ সালে নেওয়া ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই নেটওয়ার্ক প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা চলতি বছরের জুনে। কিন্তু প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ১০ দশমিক ৯০ শতাংশ।

সূত্র জানায়, বৈঠকে ওয়াসার কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকায় এসব প্রকল্পের বিষয়ে ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা কোনো প্রতিনিধি না থাকায় কমিটি ক্ষোভ প্রকাশ করে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে চলমান ২৭৩টি প্রকল্পের মধ্যে ৭০টি প্রকল্পের অগ্রগতি শূন্য থেকে ১০ শতাংশ। অবশ্য এর মধ্যে কিছু প্রকল্প গত বছরের জুন বা এর পরে নেওয়া। কমিটি এসব প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে।

বৈঠক শেষে অনুমিত হিসাব কমিটির সভাপতি আব্দুস শহীদ গণমাধ্যমকে বলেন, ঢাকা ওয়াসাকে ডাকা হলেও তাদের কেউ বৈঠকে উপস্থিত হয়নি। হয়তো তারা বৈঠকের বিষয় অবহিত ছিলেন না। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছেন, ওয়াসাকে বৈঠকের বিষয়টি জানানো হয়েছিল।

আব্দুস শহীদ বলেন, তাঁরা স্থানীয় সরকারের চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। বেশ কিছু প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ২৫ শতাংশের নিচে। যেগুলো ১০ শতাংশের নিচে সেগুলো কেন হয়নি কমিটি জানতে চেয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জনবল সংকট, অর্থ ছাড়ে দেরি হওয়া, কারিগরি মতামত পেতে দেরি হওয়াসহ কিছু কারণের কথা বলেছেন। কমিটি প্রকল্পের কাজ সময়মতো এগিয়ে নিতে উদ্যোগী হতে বলেছে।

আব্দুস শহীদের সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য নুর-ই-আলম চৌধুরী, শেখ ফজলে নূর তাপস, আহসান আদেলুর রহমান ও ওয়াসিকা আয়শা খান বৈঠকে অংশ নেন।