সংসদে ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট পাস

জাতীয় সংসদে আজ চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ১৫ হাজার ৩৩৯ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকার সম্পূরক বাজেট পাস হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত ৭ জুন ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশের সাথে এই সম্পূরক বাজেটও পেশ করেন।
আজ অর্থমন্ত্রী উত্থাপিত নির্দিষ্টকরণ (সম্পূরক) বিল-২০১৮ পাসের মধ্য দিয়ে এই সম্পূরক বাজেট পাস হয়।
চলতি অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে ২২টি মন্ত্রণালয় এবং বিভাগে এ অতিরিক্ত বরাদ্দ দেয়া হয়।
চলতি অর্থবছরের জন্য মূল বাজেটে মোট বরাদ্দ ছিল ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে ২৮ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা হ্রাস করে মোট বরাদ্দ দাঁড়ায় ৩ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। যা জিডিপির ১৬.৬ শতাংশ।
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা থেকে কিছুটা হ্রাস করে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৮১ কোটি টাকা করা হয়। যা জিডিপির ৬.৬ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২ লাখ ৪২ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা ২ লাখ ১৮ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে। অন্যান্য খাতেও রাজস্ব প্রাপ্তি সংশোধিত করায় সংশোধিত রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ১৯৪ কোটি টাকা।
এছাড়া চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৮৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে ২৮ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা হ্রাস করে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা করা হয়।
সম্পূরক বাজেটে প্রথম সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ বিভাগে ৩ হাজার ৯২৬ কোটি ১১ লাখ ৬৪ হাজার, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ৩ হাজার ৩৪৭ কোটি ৪১ লাখ ৬২ হাজার, তৃতীয় সর্বোচ্চ স্থানীয় সরকার বিভাগে ১ হাজার ৮৬৮ কোটি ৬০ লাখ ৯৫ হাজার, চতুর্থ সর্বোচ্চ সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে ১ হাজার ১৮২ কোটি ৬৪ লাখ ৫৫ হাজার, পঞ্চম সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে ১ হাজার ১৬২ কোট ৪২ লাখ ২৩ হাজার টাকা, ষষ্ঠ সর্বোচ্চ জননিরাপত্তা বিভাগে ১ হাজার ১০৯ কোটি ১১ লাখ ১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
এছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় খাতে ৪৭১ কোটি ৯৬ লাখ ২১ হাজার টাকা, সরকারি কর্ম কমিশন খাতে ৫ কোটি ৫৪ লাখ ৪৬ হাজার টাকা, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগে ১১ কোটি ৮৩ লাখ ১৮ কোটি টাকা, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে ৫০ কোটি ৯১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ২৮ কোটি ৬০ লাখ ৩১ হাজার টাকা, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় খাতে ৬৫৯ কোটি ৯৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা, আইন ও বিচার বিভাগ খাতে ৫৬ কোটি ৩৩ লাখ ৮৬ হাজার টাকা, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিভাগে ৪ কোটি ১ লাখ ৮৭ হাজার টাকা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় খাতে ৫৭ কোটি ৩৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে ৪৯ কোটি ৮০ লাখ ৭৯ হাজার টাকা, ধর্ম মন্ত্রণালয় খাতে ৩১৫ কোটি ৭৮ লাখ ৭২ হাজার টাকা, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগে ৩১১ কোটি ৫১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা, ভূমি মন্ত্রণালয় খাতে ৯১ কোটি ৬৬ লাখ ৫৭ হাজার টাকা, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে ১৭৩ কোটি ৭৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকা, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ৯৩ কোটি ২৩ লাখ ৭১ হাজার টাকা, সুপ্রীম কোর্ট খাতে ৩ কোটি ১৩ লাখ ৬৪ হাজার টাকা এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে ১৬২ কোটি ৬১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
আজ সংসদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অনুকূলে ২২টি মঞ্জুরি দাবি উত্থাপন এবং কণ্ঠভোটে তা পাসের মধ্য দিয়ে সম্পূরক বাজেট পাস হয়।
এর আগে সম্পূরক বাজেটের ওপর বিরোধীদলের সদস্যরা মোট ১৭৩টি ছাঁটাই প্রস্তাব আনেন।
এর মধ্যে ৪টি দাবির ওপর আনা ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হয়। তবে এ ছাঁটাই প্রস্তাবসহ সব প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।
এছাড়া আজ দ্বিতীয় দিনের মতো সংসদের বৈঠকে সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। কৃষি মন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, সরকারি দলের ড. আব্দুর রাজ্জাক, জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম, সেলিম উদ্দিন ও রওশন আরা মান্নান আলোচনায় অংশ নেন।
আলোচনা শেষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সদস্যদের বিভিন্ন সমালোচনা ও বক্তব্যের জবাব দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *