‘সমাবেশকে বাধাগ্রস্ত করতে যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ’

রাজধানীতে রোববারের বিএনপির সমাবেশ বাধাগ্রস্ত করতে ঢাকামুখী বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, আমরা সকাল থেকেই খবর পাচ্ছি, বিভিন্ন দিকে রাস্তাঘাট বন্ধ করে দিয়েছে। মহাসড়ক বন্ধ করেছে যেন নেতাকর্মীরা সমাবেশে যোগ দিতে না পারেন।’

তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকা-আরিচা, ঢাকা-গাজীপুর এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকার অগণতান্ত্রিক আচরণ করছে। গতরাত (শনিবার) থেকেই দলের নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার শুরু করে। অগণতান্ত্রিক আচরণ করে কোনো লাভ হবে না। সমাবেশ হবেই। দুপুরের মধ্যেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান জনসমুদ্রে পরিণত হবে।

বিএনপির সহ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ উজ জামান মামুন মোল্লা জানান, উত্তরা থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে রওয়ানা করার সময় সড়কে যানবাহনের সংকট দেখেছি। সরকার সব যানবাহন বন্ধ করে দিলেও মানুষ পায়ে হেঁটে গিয়ে হলেও সমাবেশ সফল করবে।

এদিকে, কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই রোববার সকাল থেকে রাজধানীর কাছের জেলাগুলো থেকে রাজধানী ঢাকামুখী সব গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও সোনারগাঁও থেকে সব ধবনের গণপরিবহন সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে।

এতে অফিসগামীসহ সব ধরনের যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। উপায় না পেয়ে কেউ কেউ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, এমন কী রিকশায় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েও ঢাকায় আসছেন।

তবে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির সমাবেশ ঘিরেই এই অঘোষিত ‘ধর্মঘট’ বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিবহনকর্মীরা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের এক নেতা জানান, ভোরে ঢাকার উদ্দেশে কয়েকটি বাস ছেড়ে যায়। তারপর বাস মালিকরা নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী বাসগুলো চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রাস্তায় নাশকতা ঘটতে পারে এমন আশঙ্কায় বাস মালিকরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এদিকে, রোববার দুপুরের সমাবেশে নেতাকর্মীদের ব্যাপক সমাগম নিশ্চিত করতে ঢাকা ও আশপাশের জেলার বিএনপি নেতাদের করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সমাবেশে যোগ দিতে দূরবর্তী জেলার অনেক নেতাকর্মীও এখন ঢাকামুখী।

ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী জেলার নেতাদের কেন্দ্র থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কর্মীদের নিয়ে যথাসময়ে সমাবেশে উপস্থিত হতে। এসব জেলার নেতাদের অনেকেই ইতোমধ্যে ঢাকায় চলে এসেছেন বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares