সর্বোচ্চ ব্রিটিশ রাজকীয় খেতাব পেলেন দুই বাঙালি

নতুন বছরে ব্রিটেনে বাঙালি কমিউনিটির মুখ উজ্জ্বল করলেন দুই ব্রিটিশ বাঙালি নারী। দক্ষতার স্বীকৃতি স্বরূপ ব্রিটেনের রানির কাছ থেকে সর্বোচ্চ রাজকীয় খেতাবে ভূষিত হলেন তারা। কৃতি এই দুই নারী উভয়েই পেশায় চিকিৎসক। তারা হলেন ডা. আনোয়ারা আলী ও ডা. সুলতানা জামান পপি।

মোস্ট এক্সসিলেন্ট অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ অ্যাম্পায়ার (এমবিই) খেতাব পাওয়া ডা. আনোয়ারা আলী চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত। তার অন্য পরিচয় তিনি চ্যানেল আই ইউরোপের ম্যানেজিং ডিরেক্টের বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব রেজা আহমদ ফয়সল চৌধুরী শোয়াইবের স্ত্রী।

ডা. আনোয়ারা আলীর জন্ম সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিণ ইউনিয়নের সুনামপুর গ্রামে। বাবার নাম মরহুম জোবেদ আলী আর মা ছলিমা খাতুন।

তিনি মাত্র দুই বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে ব্রিটেনে আসেন। তার বেড়ে ওঠা ইস্ট লন্ডনে। তিনি ১৯৯৭ সালে সেন্ট বারথমলুজ ও রয়েল লন্ডন মেডিকেল স্কুল থেকে এমবিবিএস পাস করেন। তিনি ইস্ট লন্ডনের স্পিটালফিল্ড ও বাংলাটাউন এলাকার একটি সার্জারিতে জিপি হিসেবে কাজ করছেন।

অন্যদিকে অফিসার অব দ্য অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ অ্যাম্পায়ার (ওবিই) খেতাবপ্রাপ্ত ডা. সুলতানা পপি জামান মেন্টাল হেলথ ফাস্ট এইড ইংল্যান্ডের চিফ এক্সিকিউটিভ। লন্ডনভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটি দেশব্যাপী মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তুলতে বিভিন্ন ধরনের প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে থাকে এবং প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। গত আট বছর ধরে এ প্রতিষ্ঠানে রয়েছেন তিনি।

২০০৩-০৪ সাল পর্যন্ত পপি পোর্টসমাউথ প্রাইমারি কেয়ার ট্রাস্টে কর্মরত ছিলেন তিনি। ২০০৭ সালে তাকে ইংল্যান্ড জুড়ে মেন্টাল হেলথ ট্রেনিং উন্নয়নের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়। মেন্টাল হেলথ ফার্স্ট এইড ট্রেনিংয়ের জনপ্রিয়তার কারণে অলাভজনক এ প্রতিষ্ঠানটিকে সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন পপি জামান।

বিগত বছর নিজ নিজ খাতে অবদানের জন্য নতুন বছরের প্রথম দিন এই পুরস্কার দেয়া হয়। মূলত নতুন বছর উদযাপনের অংশ হিসেবে কমনওয়েলথভুক্ত ১৬টি দেশের মানুষকে এই সম্মাননা দিয়ে থাকেন ব্রিটেনর রানি।

পপির পরিবার মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আদি বাসিন্দা। তবে ৪১ বছর বয়সী পপির জন্ম ব্রিটেনের পোর্টসমাউথে।

Leave a Reply