পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের নাটকীয় জয়

মোহাম্মদ হাফিজ ও ফাওয়াদ আলমের অর্ধশতকে লড়াইয়ের পুঁজি গড়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু সাব্বির রহমানের অসাধারণ শতকে দারুণ এক জয় তুলে নেয় বিসিবি একাদশ। একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে অতিথিদের ১ উইকেটে হারায় তারা।

বুধবার ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে ২৬৮ রান করে পাকিস্তান। জবাবে ৭ বল বাকি থাকতে ৯ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বিসিবি একাদশ।

১৯৯৯ সালের ৩১ বিশ্বকাপের ম্যাচে পাকিস্তানকে শেষ হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর থেকে কোনো ধরনের ক্রিকেটে পাকিস্তানকে হারাতে পারেনি তারা। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। কোনো রান না করেই ফিরে যান ওয়ানডে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা রনি তালুকদার। ভালো করতে পারেননি উদ্বোধনী জুটিতে তার সঙ্গী তামিম ইকবালও।অধিনায়ক নাসির হোসেনের চোটে দলে আসেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান তামিম। রাহাত আলির বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ার আগে মাত্র ৯ রান করেন তিনি।

ষষ্ঠ ওভারে ৯ রানে দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে হারানো বাংলাদেশ প্রাথমিক প্রতিরোধ গড়ে সাব্বির ও লিটন দাসের ব্যাটে। ২৭ বলে ২২ রান করে লিটনের বিদায়ে বড় একটা ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা।নাসিরের অনুপস্থিতিতে বিসিবি একাদশকে নেতৃত্ব দেন মুমিনুল হক। রনি, তামিমের মতো প্রথম দুই ওয়ানডের জন্য ঘোষিত দলে থাকা তিনিও ভালো করতে পারেননি। ১২ রান করে লেগস্পিনার ইয়াসির শাহর বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন মুমিনুল।

৮১ রানে চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া বিসিবি একাদশকে কক্ষপথে ফেরানোর কৃতিত্ব সাব্বির রহমান ও ইমরুল কায়েসের। ১৯ ওভারে ১২৪ রানের চমৎকার জুটি গড়ের এই দুই জনে। ইমরুলকে (৩৬) বোল্ড করে বিপজ্জনক হয়ে উঠা জুটি ভাঙেন ওয়াহাব রিয়াজ। এক সময়ে বিসিবি একাদশের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেট ২০৫ রান। জয়ের জন্য এই সময় আরো ৬৪ রান প্রয়োজন ছিল তাদের।

জাতীয় দলে সাত নম্বরে ব্যাট করা সাব্বির প্রস্তুতি ম্যাচে খেলেন চার নম্বরে। ‘প্রমোশন’ পেয়ে খেলেন ১২৩ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। তার ৯৯ রানের দৃঢ়তাভরা ইনিংসটি ৭টি চার ও ৮টি ছক্কা সমৃদ্ধ।

শুরুতে পাকিস্তানের পেসারদের বল দেখেশুনে খেলেন সাব্বির। উইকেটে থিতু হয়ে স্পিনারদের ওপর চড়াও হয়ে রানের গতি বাড়ান তিনি। পরে অতিথি পেসারদেরও ছেড়ে বলেননি। বাজে বল পেলেই সীমানা ছাড়া করেন সাব্বির।

পরপর দুই বলে সাব্বির ও শুভাগত হোম চৌধুরীকে ফিরিয়ে পাকিস্তানকে খেলায় ফেরান বাঁহাতি পেসার জুনায়েদ খান। মাত্র ৮ বলের মধ্যে ইমরুল, সাব্বির ও শুভাগতকে হারানো বাংলাদেশকে রাখেন সোহাগ গাজী।

জুনায়েদের চতুর্থ শিকারে পরিণত হওয়ার আগে ৩৬ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন সোহাগ। তার বিদায়ের সময় বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ১০ রান, হাতে ছিল ১ উইকেট।

এরপর আর উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ। মোহাম্মদ শহীদ ও তাইজুল ইসলাম ঠাণ্ডা মাথায় দলকে দারুণ এক জয় এনে দেন।

বিসিবি একাদশে থাকলেও প্রস্তুতি ম্যাচে খেলেননি জাতীয় দলে ফেরা অলরাউন্ডার আবুল হাসান।

এর আগে অধিনায়ক আজহার আলীর সঙ্গে হাফিজের ৬৬ রানের উদ্বোধনী জুটিতে ভালো সূচনা পায় পাকিস্তান। আজহারকে ফিরিয়ে ১৪.৫ ওভার স্থায়ী উদ্বোধনী জুটি ভাঙার কৃতিত্ব মুক্তার আলীর।

দ্বিতীয় উইকেটে হারিস সোহেলের সঙ্গে ৬৪ রানের আরেকটি ভালো জুটি উপহার দেন হাফিজ। হারিসকে আউট করে ১০.৩ ওভার স্থায়ী জুটি ভাঙেন শুভাগত।

এরপর হাফিজ ও মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ফিরিয়ে অতিথিদের চাপে ফেলেন শুভাগত। মাত্র ৭৯ বলে ৮৫ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলেন হাফিজ। তার ইনিংসটি ৯টি চার ও ৬টি ছক্কা সমৃদ্ধ।

এরপর ফাওয়াদ ছাড়া আর কেউ ভালো করতে না পারায় সংগ্রহ খুব একটা বড় হয়নি পাকিস্তানের। শেষ পর্যন্ত ৬৭ রানে অপরাজিত থাকেন এই মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান। তার ৫৮ বলের ইনিংসটি গড়া ৯টি চারে।

বিসিবি একাদশের শুভাগত ৩ উইকেট নেন ৩৯ রানে।

আগামী শুক্রবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে খেলবে বাংলাদেশ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

পাকিস্তান: ৫০ ওভারে ২৬৮/৯ (হাফিজ ৮৫, আজহার ২৭, হারিস ২৩, রিজওয়ান ১৮, ফাওয়াদ ৬৭*, সরফরাজ ৬, নাসিম ১, ওয়াহাব ৭, আসাদ ৫, ইয়াসির ৯, আজমল  ১৬*; শুভাগত ৩/৩৯, সোহাগ ১/১৬, শহীদ ১/৩৪, মুক্তার ১/৪০, তাইজুল ১/৪০, জুবায়ের ১/৫৬)

বিসিবি একাদশ: ৪৮.৫ ওভারে ২৭০/৯ (তামিম ৯, রনি ০, লিটন ২২, সাব্বির ১২৩, মুমিনুল ১২, ইমরুল ৩৬, শুভাগত ৫, মুক্তার ১, সোহাগ ৩৬, শহীদ ১২*, তাইজুল ৬*;জুনায়েদ ৪/৩৮, রাহাত ২/৫৪, ইয়াসির ১/৩৭, ওয়াহাব ১/৪০, আজমল ১/৪৫)

Leave a Reply