সামনেই ভূত চতু্র্দশী! জেনে নিন ১৪ শাকের উপকারিতা

কয়েকদিন পরই কালীপুজো। তার আগের দিন পালন করা হয় ভূত চতু্র্দশী।এদিন সন্ধ্যায় মঙ্গলকামনায় বাঙালি গেরস্থ বাড়িতে জ্বালানো হয় ১৪ প্রদীপ। দুপুরে ভাতের সঙ্গে খেতে হয় ১৪ রকম শাকভাজা।এই শাকগুলি হল, পালং শাক, লাল শাক, সুষণি শাক, বেতো শাক, কালকাসুন্দা, পুঁই শাক, কুমড়ো শাক, গুলঞ্চ শাক, মূলো শাক, কলমি শাক, সরষে শাক, নোটে শাক, মেথি শাক, লাউ শাক অথবা হিঞ্চে শাক৷

রামচন্দ্রের ১৪ বছর বনবাসের সঙ্গে যুক্ত হলেও এর মূল বিষয় হল চতুর্দশী তিথি।ভরা অমাবস্যয় অন্ধকার দূর করতেই দীপ জ্বালানোর রেওয়াজ। আর ১৪টি শাক খাওয়ার নিয়মটি এসেছে প্রধানত স্বাস্থ্যরক্ষার্থে।কারণ ঠান্ডার আমেজ এসে যায় এই সময়। হাওয়ায় ভাসতে থাকে হিম, যা আমাদের শরীরে গিয়ে বিভিন্ন অসুখের সৃষ্টি করে। মরসুম পাল্টানোর সময় প্রধানত শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতেই ১৪টি সাক খাওয়া দরকার। অন্তত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাতে বিষয়টি তাই দাঁড়ায়।
আয়ুর্বেদ এবং কবিরাজি শাস্ত্রে এই ১৪ শাকের গুণ অসীম।কোন শাক কী রোগ প্রতিরোধ করে আপনাদের জন্য রইল সেই তথ্য৷

১. বেতো শাক কৃমিনাশক, কোষ্ঠবদ্ধতা ও অম্বল প্রতিরোধক৷ ২. কালকাসুন্দা অ্যান্টি-অ্যালার্জিক, কোষ্ঠবদ্ধতা, অর্শ, ফিসচুলা, হুপিং কাশি, দাদ ইত্যাদির চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়৷ ৩. নিমের উপকারিতা বলে শেষ হওয়ার মতো নয়৷ ম্যালেরিয়া, জন্ডিস, এইএডস, কুষ্ঠর মতো রোগ প্রতিরোগ করে৷ এছাড়া, কৃমি, খোস-পাঁচরা, ক্ষত, স্বপ্নদোষ নির্মূল করে৷ ৪. জয়ন্তী শাক বহুমূত্র, শ্বেতী , জ্বর এবং কৃমি নাশকের কাজ করে৷ সদ্য প্রসূতিদের জন্য খুব উপকারী৷

৫. গুলঞ্চপাতার রস সেবনে কুষ্ঠ, বাতিরক্ত, জ্বর, পিত্তদোষজনিত বিকৃতি ও কৃমিরোগ নষ্ট হয়৷ ৬. সুষনি শাক হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট, উচ্চ রক্তচাপ এবং মানসিক অস্থিরতা কমানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। ৭. পলতা পাতা এই শাক যে কোন শ্বাসের রোগে কার্যকরী। এরা রক্তবর্ধক এবং লিভার ও চামড়ার রোগ সরাতে এদের প্রভূতভাবে ব্যবহার করা হয়।) ৮. হিঞ্চে শাকে ফাইটোস্টেরল সহ বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক পদার্থ থাকে। হিঞ্চে খেলে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়ে। শুধুমাত্র পিত্তনাশক হিসাবেই নয়, রক্তশোধক হিসাবে, ক্ষুধাবর্ধক এবং জ্বর নির্মূলকারী হিসাবে এর ব্যবহার অপরিসীম৷ ৯. পালং শাক জন্ডিসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য এই শাক বিশেষ উপকারী। পোড়াঘায়ে, ক্ষতস্থানে, ব্রণে বা কোথাও ব্যথায় কালচে হয়ে গেলে টাটকা পালং পাতার রসের প্রলেপ লাগালে উপকার পাওয়া যায়। পালং শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, বি, সি, ই এবং আয়রন। এজন্য পালং শাক খেলে রক্তে আয়রনের মাত্রা বেড়ে যায়।

১০. লালশাক ভিটামিন ‘এ’-তে ভরপুর। লালশাক নিয়মিত খেলে দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকে এবং অন্ধত্ব ও রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করা যায়। এটি শরীরের ওজন হ্রাস করে।কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। ১১. পুঁইশাকে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন। তবে ভিটামিন ‘বি’, ‘সি’ ও ‘এ’-এর পরিমাণই বেশি। পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে আছে ক্যালসিয়াম এবং আয়রণ। এই শাক কিছুটা গুরুপাক। তাই আমাশার রোগীদের তা না খাওয়া উচিত। রক্তে ইউরিক এসিড বেশি থাকলে বাতজনিত সমস্যা দেখা যায়। মাছের এ সমস্যা আছে তাদেরও বর্জন করা উচিত পুঁইশাক। এতে প্রচুর আঁশ আছে বলে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর করে। ১২. কলমি শাকে ক্যালসিয়াম থেকে বলে এই শাক হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে। এছাড়াও কলমি শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি,পর্যাপ্ত পরিমানে লৌহ, থাকায় এই শাক রক্ত শূন্যতার রোগীদের জন্য দারুন উপকারি। ১৩. নোটে শাক পিত্তনাশক, রক্ত পরিষ্কার করে ও মেদ কমায়৷ ১৪. মেথি শাকের গুরুত্ব অপরিসীম৷ এই শাক তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে৷ হতাশা কাটাতে ও ডায়বেটিসের জন্য মেথি শাক খুব উপকারি৷ এছাড়া, যৌনক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এই শাক৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares