সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধে সংসদে সাধারণ আলোচনার দাবি

নারী নির্যাতন, যৌন হয়রানিসহ সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সংসদে একটি বিশেষ আলোচনার দাবি জানিয়েছেন সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা। শ্রীলঙ্কায় জঙ্গি হামলা ও ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যার ঘটনা উল্লেখ করে তারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন নির্যাতন এক ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এসব বিষয়ে আলোচনার জন্য তারা একটি দিন নির্ধারণের জন্য স্পিকারের কাছে দাবি জানান।

বুধবার (২৪ এপ্রিল) সংসদের বৈঠকে পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এ প্রসঙ্গটি তোলেন। এরপর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ, মইন উদ্দিন খান বাদল, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, জাসদের হাসানুল হক ইনু, জাতীয় পার্টির রুস্তুম আলী ফরাজী ও গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ সমর্থন করেন।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘বিগত দুই মাসে দেশে-বিদেশে অনেক ঘটনা ঘটেছে। হিংসা বিদ্বেষে রক্তাক্ত হয়েছে বিদেশের মাটি ও মন্দির-মসজিদ-গীর্জা। প্রতিহিংসার আগুনে পুড়ে ছারখার হয়েছে নুসরাত। প্রধানমন্ত্রীর মমতাময়ী হাত তাকে রক্ষা করতে পারেনি। তিনি মায়ের মমতা দিয়ে চেষ্টা করেছিলেন, নুসরাতকে রক্ষা করতে। নিউজিল্যান্ডে জুমার নামাজে মানুষকে হত্যা করা হলো। শ্রীলঙ্কায় প্রতিহিংসায় মানুষ মারা গেছেন। ধর্মের নামে মানুষ মানুষকে হত্যা করছে। মসজিদ, মন্দির, গীর্জা রক্ষা হচ্ছে না।’ এই সংসদে এসব বিষয় নিয়ে সাধারণ আলোচনা হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সেলিমের নাতি জায়ান চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনায় আমরা চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। ওই ঘটনায় শোক প্রকাশের ভাষা আমাদের নেই। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ শান্তির দেশে পরিণত হয়েছে। কিন্তু, আগুনে দ্বগ্ধ হয়ে নুসরাতের মৃত্যুর বিষয়টি সমস্ত জাতির হৃদয়কে নাড়া দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ওই ঘটনায় একজন ছাড়া সব অপরাধী গ্রেফতার হয়েছে। নিষ্পাপ শিশুদেরকে হয়রানি করা হচ্ছে। রাস্তাঘাটে স্কুল থেকে যাওয়ার সময়। বাড়িতে ঢুকে। এই সামাজিক অবক্ষয় কারো কাম্য হতে পারে না।’

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত অপরাধী উপলব্ধি করবে না, যে আমি অপরাধ করে মাফ পাবো না। পার পাবো না। আমাকে শাস্তি ভোগ করতে হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত এই সামাজিক দুর্ঘটনা বন্ধ হবে না। আইনশৃঙ্খলাবাহিনী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে মোটামুটি দেশকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছে। তারা সফল হয়েছে। যারা-যারা ছোট-ছোট বাচ্চাদের নিগৃহীত করে, নির্যাতন করে। তাদেরকে খুব তাড়াতাড়ি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। অপরাধীরা কিন্তু ধরা পড়ে, তবে তারা মনে করে ধরা পড়ে কিছুদিনের জন্য জেলে যাবো। কিন্তু, কিছু হবে না। এমন আইন করতে হবে, যাতে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়। তাদেরকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলানো উচিত। না হলে এই সামাজিক অবক্ষয় মুক্ত হবে না।’

রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়নবিরোধী কমিটি গঠনের জন্য উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। দীর্ঘদিন আগে এই নির্দেশনা দেওয়া হলেও সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছে।’

হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘এসব অপরাধের রাজনৈতিক বিষয় রয়েছে। মুখোশধারী ধর্মীয় ব্যবসায়ীরা ক্রমাগত ভিন্ন ধর্মের প্রতি বিদ্বেষ প্রকাশ করে চলেছে। ক্রমাগত দেশের সংবিধানের প্রতি বিদ্বেষ প্রকাশ করে চলেছে। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তির বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ কথা বলছে। ক্রমাগত তেঁতুলের সঙ্গে তুলনা করে নারীদেরকে খাটো করার চেষ্টা করছে। তারাই নারী নির্যাতনের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষক। ধর্ম ব্যবসায়ী, নারী নির্যাতন ও নারী বিদ্বেষের ঘটনা নিয়ে আলোচনা করা দরকার। যারা নারীর বিরুদ্ধে কথা বলে তারা রাজাকারের বংশধর। যারা হোলি আর্টিজানে আক্রমণ করে তারা জঙ্গি, সন্ত্রাসী ও পাকিস্তানীপন্থী ধর্মের মুখোশধারী দানব। সেই দানবদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’