সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশের অর্থ কমেছে

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশের নামে থাকা অর্থের পরিমাণ কমেছে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশের নামে পাওনা দাঁড়িয়েছে ৪৮ কোটি ১৩ লাখ সুইস ফঁদ্ধা। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ হাজার ১০০ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশের নামে ছিল ৬৬ কোটি ১৯ লাখ ফঁদ্ধা, যার পরিমাণ বর্তমানের বিনিময় হার অনুযায়ী ৫ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। এ হিসাবে আগের বছরের তুলনায় ২০১৭ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশের নামে থাকা টাকার পরিমাণ কমেছে ২৭ শতাংশ। ব্যাংকগুলোর কাছে দেনা এবং গ্রাহক আমানত- উভয় ক্ষেত্রে অর্থ থাকার পরিমাণ আগের বছরের চেয়ে কম। ২০১৬ সালে বাংলাদেশের নামে থাকা অর্থ আগের বছরের চেয়ে ১৮ শতাংশ বেশি ছিল।

সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) গতকাল বৃহস্পতিবার সে দেশের ব্যাংকগুলোর সার্বিক পরিসংখ্যান নিয়ে ‘ব্যাংকস ইন সুইজারল্যান্ড ২০১৭’ নামে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতে সে দেশের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের পাওনা অর্থের হিসাব রয়েছে। এতে দেখা যায়, সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বিদেশিদের আমানত সামগ্রিকভাবে কমেছে। ২০১৭ সালে বিদেশি গ্রাহকদের আমানত ৪০ বিলিয়ন ফঁদ্ধা কমে ৫৯৫ বিলিয়ন হয়েছে। কয়েক বছর বৃদ্ধির পর ২০১৬ সালে সুইস ব্যাংকে ভারতের নামে অর্থের পরিমাণ কমে দাঁড়ায় ৬৬ কোটি ৪৮ লাখ ফ্রাঁ। তবে ২০১৭ সালে তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি ফঁদ্ধা।

গত বছর মে মাসে প্রকাশিত ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) রিপোর্টে বাংলাদেশের টাকা পাচারের তথ্য রয়েছে। জিএফআইর তথ্যমতে, ২০১৪ সালে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে ৯১০ কোটি ডলার বা প্রায় ৭৪ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বেশি মূল্য ও পরিমাণ দেখানো (ওভার ইনভয়েসিং) ও রফতানির ক্ষেত্রে কম মূল্য ও পরিমাণ দেখানোর (আন্ডার ইনভয়েসিং) মাধ্যমেই প্রায় ৮০ ভাগ অর্থ পাচার হয়। জিএফআইর হিসাবে ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে ৪ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *