সে ছিল যেন একটা প্রজাপতি: রাজানের মা

শুক্রবার ইসরাইলবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিয়ে আহত ফিলিস্তিনিদের চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে নিজেই ইসরাইলি সেনাদের পাশবিকতার শিকার হন ২১ বছর বয়সী এ তরুণী। গাজার খান ইউনিস সীমান্তে ইসরাইলি স্নাইপাররা রাজানকে লক্ষ্য করে গুলি করলে তিনি মারা যান।

হতাহতদের উদ্ধারে পিএমআরএসের কর্মীরা এগিয়ে গেলে গুলি করা থামেনি স্নাইপাররা। নিজেদের রক্ষার্থে মাথার ওপরে হাত তুলে সংকেত দিলেও রক্ষা পায়নি তাদেরই একজন রাজান। তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারেননি তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, কারণ ঘাতকের ছোঁড়া গুলি তার শরীর এফোঁড় ওফোঁড় করে বেরিয়ে গিয়েছিল।

ডে’স অব প্যালেস্টাইন নামক একটি সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইটে রাজানের মায়ের সাক্ষাতকারের ভিডিও প্রকাশ করে। নিজ বাসায় পঞ্চার্ধো এ নারী নিহত মেয়ের রক্তাক্ত এপ্রোন ও এর পকেট থেকে ওষুধ সামগ্রী বের করে বলেন, ইহুদী শক্তি আমার মেয়েকে সন্ত্রাসী বলে, দেখেন এগুলোই হচ্ছে আমার মেয়ের অস্ত্র। ওরা এই পোষাকটা (এপ্রোন) পর্যন্ত রক্তাক্ত করেছে। এই দেখেন আমার মেয়ের পরিচয়পত্র, এটা কি কোন সন্ত্রাসীর পরিচয়পত্র? সন্ত্রাসী তো ওরাই।

তিনি আরও বলেন, সে মানবতার কল্যাণের জন্য কাজ করছিল, এখন তার মৃত্যুতে কোথায় মানবতা? এই পোষাক (চিকিৎসা সেবাদানকারীদের নির্দিষ্ট পোষাক) পর্যন্ত তাকে রক্ষা করতে পারেনি।
রাজনের কান্না বিজরিত কণ্ঠে বলেন, আমার মেয়ের ছিল প্রজাপতির মতো। তার ভাইবোনদের খুব ভালোবাসতো। ঈদের পোষাক কিনে দেয়ার জন্য তাদের মার্কেটে নিয়ে যেত। এবারও তার ছোটবোনকে বলেছিল, ঈদের জামা নিয়ে দিতে গাজায় মার্কেটে নিয়ে যাবে। আমাকে সবসময় জিজ্ঞাসা করতো, মা, তোমার জন্য কি আনব?

সে অনেক মানুষকে সাহায্য করেছিল, অনেক মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছিল। সে ছিল গাজার প্রথম প্যারামেডিকেল নারী কর্মী, বলেন রাজানের মা।

এদিকে শনিবার রাজানের জানাযায় হাজির হয় হাজার হাজার ফিলিস্তিনি। অশ্রুসজল চোখে উপস্থিত ছিলেন তার সহকর্মীরাও। তার পরিবার, আত্মীয় স্বজন কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। তার জানাযাকে ঘিরে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ফিলিস্তিনিরা। রাজনের ছবি ও ফিলিস্তিনি পতাকা নিয়ে মিছিল করে তারা।

ইরানি গণমাধ্যম প্রেসটিভি জানিয়েছে, ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাওয়াদ আওয়াদ এ ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি ফিলিস্তিনি জনগণের সমর্থনে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে বিশ্ব সমাজের প্রতি আহ্বান জানান। সূত্র: ডে’স অব প্যালাস্টাইন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *