জাপানি প্রমোদতরীতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১৩০

Advertisements

জাপানের ইয়োকোহামা বন্দরের কাছে পৃথক করে রাখা প্রমোদতরীতে ৬০ জনেরও বেশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ নিয়ে প্রমোদতরীটির প্রায় ১৩০ জনের দেহে এ করোনাভাইরাসের সন্ধান মিলল।

বিবিসি’র তথ্যানুযায়ী, গত মাসের শেষ সপ্তাহে প্রায় তিন হাজার ৭০০ আরোহী নিয়ে চীনের উপকূল অতিক্রম করে ডায়মন্ড প্রিন্সেস নামের বিশাল প্রমোদতরী। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে প্রমোদতরীটি গত এক সপ্তাহ ধরে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে। এখনো যাত্রীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

রোববার পর্যন্ত ওই প্রমোদতরী থেকে কয়েক ডজন যাত্রীকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এছাড়া তিন হাজার ৬শ জন এখনো ওই প্রমোদতরীতেই আছেন। এদের মধ্যে অধিকাংশই বয়স্ক। ওই প্রমোদতরীর সবাইকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সম্ভব হবে কি-না সে বিষয়টি এখনো পরিষ্কার নয়।

নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আরো ৬০ জনের বিষয়ে জাহাজটির ক্যাপ্টেন বলেন, আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে মানে এই না যে আমাদের কোয়ারেন্টাইন কাজ করছে না। আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা বাড়বে এটা অপ্রত্যাশিত ছিল না, কারণ কোয়ারেন্টাইনে রাখার আগে যাত্রীরা একে অপরের সংস্পর্শে ছিলেন।

প্রমোদতরী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জাহাজটিকে কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হবে। তারপর পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গত মাসে প্রমোদতরীতে থাকা হংকংয়ের ৮০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হওয়ার পর সেটিকে বন্দরে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। এরপরেই আরোহীদের পরীক্ষা করা শুরু হয়। এছাড়া শারীরিক পরীক্ষা না হওয়া পর্যন্ত সব যাত্রীকে প্রমোদতরীর নিজ নিজ কক্ষে থাকতে বলা হয়েছে। এদিকে, জাপানের বিভিন্ন স্থানে এখন পর্যন্ত আরো ২৬ জনের এই ভাইরাসে আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি এ জাহাজে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে জাপান ছাড়াও চীন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, তাইওয়ান, ফিলিপাইন ও আর্জেন্টিনার নাগরিক রয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে। রোববার পর্যন্ত চীনে নভেল করোনাভাইরাসে আরো ৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। এ নিয়ে দেশটির মূল ভূখণ্ডেই মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯০৮ জন। শুধু হুবেই প্রদেশেরই আক্রান্ত হয়েছেন ৩৫ হাজারের বেশি নাগরিক। পুরো চীনে ৪০ হাজার ১৭০ জন আর বেইজিংসহ বিশ্ব মিলে এ ভাইরাস ছড়িয়েছে ৪০ হাজার ৭১০ জনের বেশি মানবদেহে।