কোভিড-১৯ এ যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম শিশুর মৃত্যু

Advertisements

মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো একটি বাচ্চার মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার দেশটির ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে এনডিটিভিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

দেশটির মধ্যপশ্চিমের এ রাজ্যটির গভর্নর জে বি প্রিৎজকার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, কোভিড-১৯ রোগে আগের ২৪ ঘণ্টায় যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে একটি শিশুও আছে।

ইলিনয়ের জনস্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, শিকাগোতে মৃত শিশুটির বয়স এক বছরের কম। মৃত্যুর আগেই তার শরীরে কোভিড-১৯ ধরা পড়েছিল।

“এর আগে কখনো কোভিড-১৯ এ কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। মৃত্যুর কারণ বের করতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হচ্ছে,” এক বিবৃতিতে বলেছেন বিভাগটির পরিচালকি এনগোজি এজিক।

ইলিনয়ের গভর্নর প্রিৎজকার জানান, শিশুটির মৃত্যুর খবরে তিনিও কেঁপে উঠেছেন।

“আমি জানি এ সংবাদ কতখানি কঠিন, বিশেষ করে ছোট এ শিশুর মৃত্যুর খবর। তার পরিবারের জন্য এটি অনেক কষ্টকর বিষয়। আমাদের শোকার্ত হওয়া উচিত,” বলেছেন তিনি।

এর আগে চীনে করোনাভাইরাস আক্রান্ত এক বছরেরও ছোট একটি শিশুর মৃত্যুর খবর হয়েছিল, কিন্তু আগে থেকেই ওই শিশুটির বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত জটিলতা ছিল।

গত সপ্তাহে ফ্রান্সের ঊর্ধ্বতন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জেরোমে সলোমন প্যারিসের ইলে-দে-ফ্রান্স এলাকায় কোভিড-১৯ এর রোগী ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছিলেন।

“এ অল্পবয়সী মেয়েটির করোনাভাইরাসে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হয়েছিল, যা খুবই বিরল,” বলেছিলেন তিনি।

একই সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়ার লস এঞ্জেলসের জনস্বাস্থ্য বিভাগও এক কিশোরের কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত ও মৃত্যুর খবর দিয়েছিল।

লস এঞ্জেলসের ওই কিশোরের ঘটনা বেশ জটিল এবং তার মৃত্যুর অন্য ব্যাখ্যাও থাকতে পারে, বলেছিল তারা।

এনডিটিভিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস তুলনামূলক বয়স্ক ও বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্তদের ওপরই বেশি প্রভাব বিস্তার করতে পারে বলে বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রেই এখন কোভিড-১৯ এ আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। শনিবার পর্যন্ত দেশটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ২০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। মৃত্যুর সংখ্যা পেরিয়েছে দুই হাজার।

আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হলেও মৃতের সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখনো ইতালি, স্পেন ও চীনের নিচে।

শনিবার দেশটির কর্মকর্তারা ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানেই সাড়ে চারশর বেশি মানুষ কোভিড-১৯ এ প্রাণ হারিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন।

শিকাগোতে মৃত শিশুটি ইলিনয়ে এখন পর্যন্ত মারা যাওয়া ১৩ জনের মধ্যে একজন বলেও জানিয়েছেন তারা।