ট্রাম্পমুক্ত নিরাপদ আমেরিকা চাই: বাইডেন

Advertisements

ক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন বলেছেন, গত চার বছরে ট্রাম্প যে সহিংসতার বীজ বুনেছেন, তা তিনি বন্ধ করতে পারবেন না। ডোনাল্ড ট্রাম্প অনেক আগেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন। আমি একটি নিরাপদ আমেরিকা চাই। অপরাধ, লুটতরাজ ও সহিংসতামুক্ত আমেরিকা চাই। খারাপ পুলিশ মুক্ত আমেরিকা চাই। সর্বোপরি আগামী চার বছর ট্রাম্পমুক্ত নিরাপদ আমেরিকা চাই।

নির্বাচনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য পেনসিলভানিয়ার পিটসবার্গে গত ৩১ আগস্ট নিজের প্রথম নির্বাচনী সমাবেশে জো বাইডেন এসব কথা বলেছেন। পিটসবার্গে জো বাইডেন যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন তখন হোয়াইট হাউসের সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প উগ্র শ্বেতাঙ্গদের সহিংসতার নিন্দা জানাতে অস্বীকার করেছেন। কাইল রিটেনহাউস নামের ১৭ বছরের এক শ্বেতাঙ্গ তরুণ এআর-১৫ রাইফেল নিয়ে প্রকাশ্যে রাস্তায় নেমে আসার ঘটনারও তিনি কোনো নিন্দা জানাননি। বলেছেন, কাইল রিটেনহাউস আত্মরক্ষার্থে এমন করেছেন।

ডেমোক্রেটিক দল ও রিপাবলিকান দলের জাতীয় কনভেনশনের পর আমেরিকার রাজনৈতিক মাঠ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। নির্বাচনের আর মাত্র দুই মাস বাকি। কনভেনশনের পর একটি গুরুত্বপূর্ণ জরিপে দেখা যাচ্ছে, চরম আগ্রাসী বক্তব্য রাখার পরও ডোনাল্ড ট্রাম্প জনমত জরিপের ব্যবধান জাতীয়ভাবে কমিয়ে আনতে পেরেছেন। ট্রাম্প ও বাইডেনের জনমতের ব্যবধান এখন মাত্র দুই শতাংশ। এক মাস আগেও ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন যেকোনো জরিপে গড়ে ৯ শতাংশ পিছিয়ে ছিলেন জো বাইডেনের চেয়ে।

কনভেনশনের পর পরিচালিত জরিপের ফলাফল ৩১ আগস্ট প্রকাশ করেছে এমারসন কলেজ। এ জরিপে দেখা যাচ্ছে, দুই প্রার্থীর মধ্যে এখন ব্যবধান মাত্র দুই শতাংশ। এমন কাছাকাছি জনমতের অবস্থান নির্বাচনকে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমারসন কলেজের জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, জাতীয়ভাবে গড়ে বাইডেনের পক্ষে ৪৯ শতাংশ লোকজন। অপরদিকে ট্রাম্পের পক্ষে জনমত ৪৭ শতাংশ। দুই দশমিক চার শতাংশ ত্রুটির অবকাশ থাকলেও ফলাফলে বলা হয়েছে, পুরুষ ভোটারদের মধ্যে ৫০ শতাংশ ট্রাম্পের পক্ষে। বাইডেনের পক্ষে ৪৫ শতাংশ। নারী ভোটারদের মধ্যে বাইডেনের ৫২ শতাংশ এবং ট্রাম্পের ৪২ শতাংশ।

পিটসবার্গে দাঁড়িয়ে জো বাইডেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আজ বহুবিধ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এসব সংকটকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে তুলছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। কোভিড-১৯ সমস্যা, অর্থনৈতিক দুরবস্থা, অযৌক্তিক পুলিশি সহিংসতা, উসকে ওঠা শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদ, যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বাসের সংকটের কথা উল্লেখ করে বাইডেন বলেছেন, ট্রাম্প এসব সংকটকে আরও নাজুক করে তুলেছেন। ট্রাম্প শান্তির চেয়ে বিশৃঙ্খলাকেই উৎসাহিত করছেন।