Advertisements

জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিলো ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। বিতর্কিত ৩৭০ ধারা বাতিল করতে সংসদে প্রস্তাব পেশ করলেন ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সংসদের অনুমোদনের পরই রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এই প্রস্তাবে সই করেছেন। রাষ্ট্রপতির সইয়ের সঙ্গে সঙ্গেই কাশ্মীরকে বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া ৩৭০ ধারা বিলুপ্ত হল। সেই সঙ্গে একটি স্বায়ত্বশাসিত রাজ্যের মর্যাদাও হারাল কাশ্মীর।

এ ছাড়া জম্মু ও কাশ্মীরকে দুভাগে ভাগ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর মিলিয়ে একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। অন্যদিকে লাদাখকে পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সোমবার, তুমুল জল্পনার শেষে ভারতের রাজ্যসভায় বিতর্কিত ৩৭০ ও ৩৫এ ধারা বাতিল করার প্রস্তাব করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী। বিরোধীদের প্রবল বিরোধিতা ও হট্টগোলের মধ্যে বিতর্কিত ধারাটিকে বাতিল করতে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করা হয়। প্রস্তাবটি কাশ্মীর সংরক্ষণ বিল নামে একটি বিল আকারে পেশ করা হয়। এই প্রস্তাবে রাষ্ট্রপতি সইও করেন।

এরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা করেন কাশ্মীরের অঙ্গরাজ্যের মর্যাদাও ছিনিয়ে নেওয়া হল। এবং উপত্যকাকে দুটি ভাগে ভাগ করে দেওয়া হল। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী লাদাখে কোনও বিধানসভা থাকছে না। অন্যদিকে, জম্মু ও কাশ্মীরে পৃথক বিধানসভা থাকলেও, স্থানীয় সরকারের হাতে নিরাপত্তা বা আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব থাকবে কেন্দ্রের উপরই। ফলে, জম্মু ও কাশ্মীর সরকারের হাতে আর্থিক ক্ষমতা ছাড়া অন্য কোনও ক্ষমতাই কার্যত থাকবে না।

কদিন আগে থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় জল্পনা ছড়িয়েছিল কাশ্মীরকে ৩ ভাগে ভাগ করে দেওয়া হবে। সেই জল্পনাই কার্যত সত্যি হল। কাশ্মীরকে ৩ ভাগে ভাগ করা না হলেও দুটি পৃথকভাগে ভাগ করে দেওয়া হল।

ফলে, কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ সরাসরি নয়াদিল্লির হাতে থাকবে। যা এককথায় ঐতিহাসিক।

সীমান্তে উত্তেজনার পাশাপাশি এই সিদ্ধান্তের ফলে অভ্যন্তরের জঙ্গি কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণেও অনেকটাই সুবিধা হবে বলে ধারণা ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের। জঙ্গি নিয়ন্ত্রণের জন্য আর কাশ্মীর সরকারের মুখাপেক্ষী থাকতে হবে না।

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

By Abraham

Translate »