জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখে নতুন যুগের সূচনা হয়েছে: নরেন্দ্র মোদি – C News
আন্তর্জাতিক

জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখে নতুন যুগের সূচনা হয়েছে: নরেন্দ্র মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ এবং ৩৫এ ধারা জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ, পরিবারবাদ ছাড়া আর কিছু হয়নি। এতে কোনো মানুষের লাভবান হয়নি। জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের উন্নয়ন হয়নি।

আজ (বৃহস্পতিবার) রাতে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি বলেন, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত হওয়ায় জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখের বহু মানুষের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এর ফলে সেখানে এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে যে সমস্যার মধ্যে ছিলেন তার পরিসমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। এখন জম্মু ও  কাশ্মীর-লাদাখের মানুষ বহু সুবিধা পাবেন।

গত ৫ আগস্ট কাশ্মীরের বাসিন্দাদের বিশেষ সুবিধা সম্বলিত সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের বিল পাস হয়েছে। তার আগের দিন অর্থাৎ ৪ আগস্ট রাত থেকে জম্মু-কাশ্মীরে এখনও প্রায় সর্বত্র ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। ইন্টারনেট, মোবাইল, টেলিফোন লাইন পরিষেবা- প্রায় সব কিছুই বন্ধ রয়েছে। সেখানকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এরই মধ্যে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী।

৩৭০ ধারা বাতিল করে জম্মু-কাশ্মিরকে দ্বিখণ্ডিত করা হয়।

নরেন্দ্র মোদি বলেন, “৩৭০ ধারা কার্যকরী থাকায় জম্মু-কাশ্মীর পেয়েছে শুধু সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ, পরিবারবাদ এবং দুর্নীতি। জনকল্যাণে সংসদে যে সব আইন তৈরি হত, তা কার্যকরী হত না উপত্যকায়। কেন্দ্রের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির সুবিধা পেতেন না। এমনকি, চাকরিতে সংরক্ষণ, তথ্য জানার অধিকারের মতো আইনও সেখানে কার্যকরী ছিল না। সেই সব থেকে মুক্ত হয়ে এক নতুন জম্মু-কাশ্মীর আত্মপ্রকাশ করেছে।”

কেন্দ্রের অধীনে থাকায় এখন জম্মু-কাশ্মীরে পরিকাঠামো, যোগাযোগ, ব্যবসা, পর্যটন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য— সব ক্ষেত্রে  উন্নয়ন গতি আসবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

মোদি বলেন, “জম্মু-কাশ্মীরের মানুষকে একটা কথা বলতে চাই, আপনাদের দ্বারাই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবে। আমার পুরো বিশ্বাস, এই নতুন ব্যবস্থায় আমরা সবাই মিলে জম্মু-কাশ্মীরকে সন্ত্রাসমুক্ত করব। আমি মনে করি না, দীর্ঘদিন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীরে চালু রাখার প্রয়োজন হবে। জম্মু-কাশ্মীরের মানুষকে আমি আশ্বস্ত করতে চাই, আপনাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার আপনাদের খুব শিগগির প্রতিষ্ঠিত হবে।”

জন্মু-কাশ্মীরকে দ্বিখণ্ডিত করে নবগঠিত কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “লাদাখ হয়ে উঠতে পারে দেশের সবচেয়ে বড় ও আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। এখানকার ভেষজ সম্পদ বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে হবে। সৌরশক্তি উৎপাদনে নতুন পথ দেখাতে পারে লাদাখ।” এখানেও শিক্ষা, স্বাস্থ্য-সহ সব বিষয়ে কেন্দ্রের সর্বোপরি সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

কাশ্মীরবাসীকে দেশবাসীর সঙ্গে একাত্ম করতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আপনারা কখনওই মনে করবেন না আলাদা। আপনাদের সুখ-দুঃখ আমাদেরও সুখ-দুঃখ।’’

কাশ্মীরবাসীকে ঈদের আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে ধুমধাম করে ঈদ পালনের কথা বলেন মোদি। “ঈদ সামনে। সবাইকে শুভকামনা। জম্মু-কাশ্মীরে ঈদের সময় যেন কোনো সমস্যা না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখছে সরকার। যারা কাশ্মীরের বাইরে থাকে, তাদের যারা ঈদ করার জন্য এলাকায় যেতে চাইছে তাদের সহযোগিতা করছে সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *