জাতীয়

দেশ উন্নত হচ্ছে বলেই ডেঙ্গু: প্রতিমন্ত্রী স্বপন

Advertisements

প্রাণঘাতী ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে যখন হাজার হাজার মানুষ ধুঁকছে তখন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য বললেন, দেশ উন্নত হচ্ছে বলেই বাংলাদেশে এই রোগ দেখা দিয়েছে।

নিজের এই বক্তব্যের পক্ষে যুক্তিও দিয়েছেন স্বপন; তার ভাষ্যমতে, ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এইডিস ইজিপ্টি ‘এলিট শ্রেণির’ মশা এবং তা বাংলাদেশ ছাড়াও সিঙ্গাপুর, ব্যাংককের মতো শহরে দেখা দিয়েছে।

বর্ষা মওসুম শুরুর পর গত জুনের প্রথম দিকে ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়। এরপর দুই মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৩৪ হাজার ছাড়িয়েছে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯০ জনের বেশি, যদিও সরকারি হিসাবে ২৯ জনের মৃত্যুর কথা বলা হচ্ছে।

ডেঙ্গু এত ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ার জন্য ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে দায়ী করছেন অনেকে, দুই মেয়রের পদত্যাগের দাবিও উঠেছে। ডেঙ্গুতে স্বজন হারানো পরিবারগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম।

এর মধ্যে বৃহস্পতিবার গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় এক সেমিনারে বক্তব্যে ডেঙ্গু নিয়ে এই কথা বললেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী স্বপন, মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে তার শিক্ষাগত যোগ্যতায় ১৯৭৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের তথ্য উল্লেখ আছে।

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, “দেশ যত উন্নত হবে মানুষের সমস্যা তত বাড়বে। যে দেশ যত উন্নত হচ্ছে সে দেশে তত রোগের প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে।

“ডেঙ্গু এলিট শ্রেণির একটি মশা। এ মশা সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, কলকাতা শহরে দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন উন্নত দেশ হতে যাচ্ছে। তাই এখন দেশে ডেঙ্গু এসেছে। মানুষের যত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে তত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।”

এর আগে ডেঙ্গুর জন্য দায়ী এইডিস মশার বংশবিস্তার নিয়ে এক মন্তব্যের জন্য সমালোচিত হয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

গত ২৫ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজে এক সেমিনারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, “আমাদের দেশে হঠাৎ করে কেন এত ডেঙ্গু রোগী? একটি সিম্পল উত্তর আমার পক্ষ থেকে, সেটা হল-মশা বেশি, এইডিস মশা বেশি। সে মশাগুলি অনেক হেলদি মশা এবং সে মশাগুলি অনেক সফিস্টিকেটেড মশা। তারা শহরে, বাড়িতে থাকে- এটিই উত্তর। যেহেতু প্রডাকশন বেশি… মশা বাড়তেছে।

“সামহাউ উই কুড নট ম্যানেজ কন্ট্রোল দা মসকুইটো পপুলেশন। যেভাবে রোহিঙ্গা পপুলেশন বাড়ে.. আমাদের দেশে এসে। সেভাবে মসকিটু পপুলেশন বেড়ে যাচ্ছে। .. প্রডাকশন যদি কম হত, এডিস মশা কম হত। মানুষ আক্রান্ত মশার কামড় কম খেত, ডেঙ্গু কম হত।”

ডেঙ্গু বাংলাদেশে প্রথম দেখা দেয় ২০০০ সালে, সে সময় এই রোগে মারা যান ৯৩ জন। তিন বছর পর থেকে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর হার কমতে থাকে এবং কয়েক বছর এতে মৃত্যু শূন্যের কোটায় নেমে আসে।

তবে গত বছর আবার দেখা দেয় ডেঙ্গু, ১০ হাজার মানুষ আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি ২৬ জনের মৃত্যু হয়। আর এবার ডেঙ্গুর মওসুমের আরও অন্তত দুই মাস বাকি থাকতেই আক্রান্তের সংখ্যা গত বছরের তিন গুণের বেশি হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু দারিদ্র্য বিমোচন ও পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বাপার্ড) আয়োজিত ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ বাস্তবায়নে বাপার্ডের করণীয় শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বপন ভট্টাচার্য্য।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা মুক্তিযদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নসহ বঙ্গবন্ধুর যে মূল আদর্শ ছিল সোনার বাংলা, গ্রামের মানুষের উন্নয়ন তা বাস্তবায়নের কাজ করছেন।

বঙ্গবন্ধু দারিদ্র্য বিমোচন ও পল্লী উন্নয়ন একাডেমির ( বাপার্ড) মহাপরিচালক শেখ মো. মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনূষ্ঠিত সেমিনারে বাপার্ডের পরিচালক (প্রশাসন)  আলমগীর হোসেন, প্রকল্প পরিচালক মাহামুদুন্নবী, কোটালীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান বিমল কৃষ্ণ বিশ্বাস বক্তব্য রাখেন।

সেমিনারে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও বাপার্ডের কর্মকর্তারা অংশ নেন।