জাতীয় শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন

মাদ্রাসায়ও দুপুরের খাবার দেবে সরকার

Advertisements

সরকারি প্রাথমিক স্তরের মতো এবার মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদেরও দুপুরের খাবার দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এজন্য জাতীয় স্কুল মিল নীতির মতো তৈরি করা হবে নীতিমালাও। এরই মধ্যে যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কাজ শেষ হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রকল্প আকারে কাজ শুরু হলেও পরবর্তীতে এটি জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাইফুদ্দিন আহমদ রাইজিংবিডিকে এই তথ্য জানান।

তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সরকারও এ বিষয়ে আন্তরিক। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি মাদরাসার ইবতেদায়ী শিক্ষার্থীদের জন্য দুপুরে একবেলা খাবারের ব্যবস্থা থাকবে।

‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বলছে ২০২৩ সাল নাগাদ এটি পুরোদমে বাস্তবায়ন করতে পারবে। তবে মাদরাসায় এমন কোনো সময়সীমা নির্ধারণ নেই। প্রথমে এটি কয়েকটি জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালিত হবে।’-এমনটাই বললেন সাইফুদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে তিন বছর মেয়াদী প্রকল্পটি চলতি অর্থবছর থেকে শুরু হয়ে তিন বছর চলবে। যদি প্রাথমিকভাবে আমরা সফল হই, তাহলে ধারাবাহিকভাবে পুরোদমে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পের আওতায় স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা খাবার পেলেও সংযুক্ত ইবতেদায়ি শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচির আওতাভুক্ত ছিল না। নতুন এ প্রকল্প নেয়া হলে সংযুক্ত ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা খাবার পাবে। নতুন প্রকল্পের আওতায় সংযুক্ত ও স্বতন্ত্র উভয় ধারার শিক্ষার্থীরাই খাবার পাবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

সূত্র বলছে, ‘ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষার্থী ফিডিং প্রকল্প’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। প্রকল্পটি ইতোমধ্যে এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মন্ত্রনালয় সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটির ডিপিপি তৈরি করতে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরকে লিখিত নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। গত ৪ আগস্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠায় কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ। নির্দেশনা অনুযায়ী ডিপিপি তৈরি করে সেটি ইতোমধ্যে সাবমিট করা হয়েছে।

তবে এ প্রকল্পের সুফল এ বছর নাগাদ পাওয়া যাবে কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, এর জন্য বরাদ্দের বিষয় আছে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে টাকা বরাদ্দের সম্মতি পেলে তবেই এ প্রকল্পের সুফল পাওয়া শুরু করবে মাদরাসাগুলো। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ব্যয়ের প্রাক্কলন অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এবং তা অনুমোদন হয়ে আসা সময় সাপেক্ষ। তাই এ বছর নাগাদ এটি বাস্তবায়ন সম্ভবপর নয়। তবে আগামী বছরের শুরু থেকে এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচির খসড়া ইতোমধ্যে অনুমোদন হয়েছে। মন্ত্রী পরিষদ সচিব বলেন, বর্তমানে ১০৪ উপজেলায় প্রকল্পের মাধ্যমে স্কুল ফিডিং (বিস্কুট বিতরণ) চালু আছে। এবার সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই স্কুল ফিডিং চালু করতে চায় সরকার।

নীতিমালার খসড়ায় বলা হয়েছে, একটি শিশুর প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় শক্তির চাহিদার ন্যূনতম ৩০ শতাংশ স্কুল মিল থেকে আসা নিশ্চিত করা হবে।