কাবিননামায় ‘কুমারী’ শব্দ লেখা যাবে না : হাইকোর্ট – C News
জানাঅজানা

কাবিননামায় ‘কুমারী’ শব্দ লেখা যাবে না : হাইকোর্ট

নিকাহ রেজিস্ট্রি ফর্মে ‘কুমারী’ শব্দটি মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। কুমারী শব্দের স্থলে অবিবাহিত লিখতে বলেছেন আদালত।

আজ রোববার বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি খিজির আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।পাঁচ বছর আগে করা এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি হয় আজ।

রায়ে বলা হয়,নিকাহ রেজিস্ট্রি ফরমে একটি কলাম যুক্ত করে বরের ক্ষেত্রে অবিবাহিত/বিপত্নীক/তালাকপ্রাপ্ত শব্দগুলো যুক্ত করা যাবে।

বিয়ের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কাবিনের ৫ নম্বর কলামে উল্লিখিত কনের ক্ষেত্রে ‘কুমারী’ কি না—এমন বিধান বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৪ সালে হাইকোর্টে রিট করে ব্লাস্ট, নারী পক্ষ ও মহিলা পরিষদ।

প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরই আদালত রুল দেন। এ রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষ আজ রায় দেওয়া হলো।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও আইনুন নাহার সিদ্দিকা। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।

পরে জেড আইন খান পান্না বলেন,‘আদালত বলেছেন কুমারী শব্দটা থাকা ঠিক না।সেটা বাদ দেওয়া এবং কাবিনের ৪ নম্বর কলামে বরের ক্ষেত্রে সে বিবাহিত কি না, তালাকপ্রাপ্ত কি না এবং বিপত্নীক কি না সেটা লিখতে হবে। ’

আইনুন্নাহার সিদ্দিকা বলেন, ‘৫ নম্বর কলামের কুমারী শব্দে আমাদের আপত্তি ছিল। কুমারী বিষয়টা পুরোপুরি প্রাইভেসির ব্যাপার। রাইট টু প্রাইভেসি অনুযায়ী এ রিট করেছি। ’

এই রুলের শুনানিতে এ বিষয়ে ধর্মীয় মতামত দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন। গত ১৬ জুলাই এ বিষয়ে ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘৫ নম্বর কলামে এটা থাকা উচিত না। কারণ ব্যক্তির মর্যাদা ও গোপনীয়তাকে ক্ষু্ণ্ন করে। যা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ ছাড়া ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী এগুলো থাকা বাধ্যতামূলক নয়। মুসলিম শরীয়তে এ ধরনের কোনো শর্ত নেই। ’

রিটের বিবাদীরা হচ্ছেন- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রিন্টিং এবং প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচাকলসহ সংশ্লিষ্টরা।

আবেদনকারীদের দাবি, কাবিননামায় শুধু কনের বৈবাহিক অবস্থা ও তথ্য সন্নিবেশিত করার জন্য অনুচ্ছেদ রয়েছে।তবে বরের বৈবাহিক অবস্থা-সম্পর্কিত কোনো অনুচ্ছেদ নেই। এটা নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক। সংবিধান অনুসারে কারও প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না। ওই অনুচ্ছেদটি সংবিধানের ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ পরিপন্থী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *