অর্থনীতি ও ব্যবসা জাতীয়

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে আর আর্থিক সহায়তা নয় : অর্থমন্ত্রী

Advertisements

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি বা অন্য কোনো কারণে সরকারি কোষাগার থেকে আর আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

তিনি বলেছেন, এখন থেকে সোনালী, রূপালী, জনতা ও অগ্রণী- এ চার ব্যাংকে আর পুনঃঅর্থায়ন করা হবে না। বাজেটেও এসব ব্যাংকের জন্য কোনো বরাদ্দ থাকবে না। ব্যাংকগুলোকে নিজেদের অর্থে চলতে হবে।

রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি মিলনায়তনে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বৈঠকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব আসাদুল ইসলাম, ইআরডি সচিব মনোয়ার আহমেদ, অর্থ সচিব আবদুর রউফ তালুকদার, সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রধান, জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান জামালউদ্দিন আহমেদ, রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ, অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামস উল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এবার বাজেটে ব্যাংকগুলোর জন্য বরাদ্দ রয়েছে। তবে আগামীতে তাদের জন্য আর কোনো বরাদ্দ রাখা হবে না। জনগণকে সেবা দিয়ে আয় করেই ব্যাংকগুলোকে চলতে হবে। চার ব্যাংককে সাত দিনের কর্মপরিকল্পনা বেঁধে দেয়া হয়েছে। সাত দিন পর তারা ব্যাংকের কর্মপরিকল্পনা আমার কাছে নিয়ে আসবে। তাদের কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। শুধু অর্থায়ন ছাড়া তাদের অন্য সহায়তা দেয়া হবে।

তিনি বলেন, ব্যাংক চারটির কর্ম এলাকা অনেক বড়, প্রায় ২৫ শতাংশ। চারটি ব্যাংককে লোকসান কমিয়ে আনার পাশাপাশি ১৫ শতাংশ লাভ করতে হবে। জনগণকে সেবা দিয়ে ব্যাংকগুলোকে মুনাফা বাড়াতে হবে। অর্থনীতি মানুষের জন্য। সরকার এমন কিছু করবে না, যাতে জনগণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার বিষয়ে শিগগরিই সার্কুলার জারি করা হবে।

খেলাপি ঋণ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, খেলাপি ঋণ কমানোর এক্সিট প্ল্যান বাস্তবায়িত না হওয়ায় খেলাপি ঋণ বেশি দেখাচ্ছে। এটি বাস্তবায়ন হলেই খেলাপি ঋণ অনেক কমে আসবে। এই এক্সিট প্ল্যান আদালতে আছে। এটা বিচারাধীন থাকায় এ বিষয়ে কিছু বলা ঠিক হবে না। আইনের দ্রুত সুরাহা হলেই খেলাপি ঋণের বর্তমান চিত্র থাকবে না। আইনটি বাস্তবায়নাধীন থাকায় অনেক ব্যবসায়ী খেলাপি ঋণ পরিশোধ করছেন না।

জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আমরা অবকাঠামো খাতে অনেক বিনিয়োগ করেছি। খুব শিগগরি এসবের সুফল পাওয়া যাবে। এসবের সুফল পেতে থাকলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের নিচে নামবে না। আমাদের আর্থিক খাত ঠিকভাবে চলছে। আমরা অর্থনীতির সব খাতেই ভালো করছি। দেশে রপ্তানি বাড়ছে। যারা বলছে, রপ্তানি কমছে, তারা অসত্য বলছে।

পুঁজিবাজার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজার ঠিকভাবে চলছে। এখানে বাইরের পুঁজি নেই। পুঁজিবাজার আমাদের ক্ষতির কারণও হবে না।