Advertisements

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি আমেরিকার কাছে অনুরোধ করেছেন ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে আমেরিকাকে প্রথম পদক্ষেপ নিতে হবে।

”এই পদক্ষেপ ছাড়া এই তালা খোলা যাবে না,” মি: রুহানি বলেন।

একদিন আগে অর্থাৎ সোমবারই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন পরিস্থিতি অনুকূল হলে তিনি বৈঠকে বসতে রাজি আছেন।

মি: ট্রাম্প গত বছর ইরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ড সীমিত করার চুক্তি বাতিল করে দেন এবং আবার নতুন করে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এর পর থেকেই আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে।

মি: ট্রাম্প একটা নতুন চুক্তি চান যে চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অনির্দিষ্টকালের জন্য গুটিয়ে আনা যাবে এবং যে চুক্তির আওতায় ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও তৈরি করতে পারবে ন।

ইরান এই প্র্রস্তাব প্রত্যাখান করেছে।

২০১৫ সালে সম্পাদিত চুক্তির সঙ্গে জড়িত বিশ্বের অন্যান্য দেশ যেমন যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, চীন এবং রাশিয়া এই চুক্তিটি চালু রাখার চেষ্টা করেছে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের তেল রপ্তানি ধ্বংস হয়ে গেছে, তাদের মুদ্রার মূল্যমান পড়ে গেছে এবং ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতি ঘটেছে।

আমেরিকা এবছরের গোড়ার দিকে ইরানের তেল রপ্তানি শূণ্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে সক্ষম হবার পর, ইরান এর জবাবে ওই পারমাণবিক চুক্তির অধীন কিছু প্রতিশ্রুতি মানার বিষয়টি স্থগিত করে দিয়েছে।

ইরান হুমকি দিয়েছে নিষেধাজ্ঞার আওতা থেকে তাদের অর্থনীতিকে রক্ষার ব্যবস্থা করা না হলে তারা আরও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবে।

ইরানের বিরুদ্ধে উপসাগরীয় এলাকায় বিদেশি জাহাজের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।

মি: ট্রাম্প সোমবার কি বলেছেন?

ফ্রান্সের বিয়ারিৎজে জি-সেভেন শিল্পোন্নত গোষ্ঠির শীর্ষ সম্মেলনের পর এই যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ফরাসী প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছিলেন তিনি মি: রুহানিকে টেলিফোন করে কথা বলেছেন। তিনি মি: রুহানিকে তিনি জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে যদি তিনি বৈঠকে বসতে রাজি হন, তাহলে ”একটা চুক্তিতে পৌঁছন সম্ভব হবে বলে তার দৃঢ় বিশ্বাস”।

”আমার আশা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আমরা একটা শীর্ষ বৈঠক করতে পারব।”

 

মি: ট্রাম্প বলেছেন এরকম বৈঠক বাস্তবসম্মত এবং তিনি বলেছেন ইরানের অর্থনীতি সচল রাখার জন্য অন্যান্য দেশ যাতে ইরানকে অর্থ ঋণ দিতে পারে সেটা দেখার জন্য ইতোমধ্যেই কথাবার্তা চলছে।

”আমার একটা ইতিবাচক অনুভূতি হচ্ছে। আমার ধারণা তিনি (প্রেসিডেন্ট রুহানি) বৈঠকে বসতে চান এবং তাদের অবস্থার একটা সমাধান করতে চান। এই নিষেধাজ্ঞা তাদের খুবই ক্ষতি করছে,” বলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

মি: ট্রাম্প এবং মি: রুহানি দুজনেই সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বৈঠকে যোগ দেবেন। ১৯৭৯-৮১-তে মার্কিন দূতাবাসে পণবন্দী সঙ্কটের পর এই প্রথমবার আমেরিকান এবং ইরানী দুই নেতা মুখোমুখি হবেন।

মি: রুহানির প্রতিক্রিয়া কি?

মঙ্গলবার তেহরানের এক অনুষ্ঠানে টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেছেন তিনি সবসময়েই কথা বলতে রাজি, তবে তার আগে আমেরিকাকে ইরানের ওপর থেকে অবৈধভাবে আরোপ করা, অন্যায্য এবং অযৌক্তিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।”

তিনি আরও বলেছেন: ”আমেরিকা যদি নিষেধাজ্ঞা তুলে না নেয় এবং তারা যে ভুল পথে হাঁটছে তা থেকে সরে না আসে, আমরা কোন ইতিবাচক অগ্রগতি দেখব না। একটা ইতিবাচক অগ্রগতির চাবিকাঠি আমেরিকার হাতে।”

মি: রুহানি বলেছেন মি: ট্রাম্পের একমাত্র উদ্বেগ যদি হয় ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করল কিনা, তাহলে তো আর চিন্তার কিছু থাকে না।

”আমরা কোন ব্যাপক বিধ্বংসী মারণাস্ত্র তৈরি করছি না, আণবিকও না বা রাসায়নিকও না। সেটা আপনার চোখ রাঙানো বা ভয়ভীতির কারণে নয়, আমরা এটা করছি না আমাদের বিশ্বাস ও নৈতিকতার কারণে। আমাদের সর্বোচ্চ নেতার ফতোয়াও তাই।”

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই ২০০৩ সালে একটি ফতোয়া দিয়েছিলেন বলে খবরে জানা যায় যেখানে তিনি বলেছিলেন ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি প্রত্যাখান করে।

কিন্তু ইরান যে পারমাণবিক বোমা তৈরি করছে না সেটা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশ্বাস করে নি এবং ২০১৫ সালে তারা একটি চুক্তি সম্পাদন করে যাতে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে।

By Abraham

Translate »