অর্থনীতি ও ব্যবসা

এবার ডেঙ্গুর কারণে মানুষের খরচ ২৭৮ কোটি টাকা

Advertisements

কেবল হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে গিয়ে এ বছর আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গুর কারণে সাধারণ মানুষের খরচ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২৭৮ কোটি টাকা। এমন হিসাব উঠে এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের জরিপে। ডেঙ্গুর কারণে হওয়া এসব বাড়তি খরচ থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে এখনই মাস্টার প্ল্যান নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীদের নিজেদের পকেট থেকে কত টাকা খরচ করতে হচ্ছে- সেরকমই একটি বিষয়ের ওপর জরিপটি চলছিল, যা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট। ওই জরিপের কাজে অংশ নেয়া দুই শিক্ষার্থী ঐশ্বর্য এবং উর্মিলা। তাঁরা জরিপে ডেঙ্গুর চিকিৎসার খরচ নিয়ে যেসব প্রশ্ন করছিলেন সেরকমই কিছু প্রশ্ন করা হলো কয়েকজনকে, যাদের মধ্যে একজন ছিলেন মোহাম্মদ রাজু, যার দুই সন্তানই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে।

রাজু বলেন, ‘আমি সবজি বিক্রি করি। বাচ্চা অসুস্থ হওয়ার পর থেকে আমার ব্যবসা বন্ধ। হাতে যা ছিল প্রায় শেষ।’

জরিপে অংশ নেয়া ঐশ্বর্য এবং নুসরাতের অভিজ্ঞতা হলো সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা খরচ কম হলেও রোগী পর্যায়ে অন্যান্য খরচ ঠিকই বেশি হচ্ছে।

ঐশ্বর্য বলেন, ‘৬০ ভাগেরও বেশি রোগী ঢাকার বাইরে থেকে আসছেন।’ নুসরাত বলেন, ‘রোগীরা ঢাকার বাইরে থেকে আসছেন। এতে পরিবহন খরচও বেশি।’

আরো অনেক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের শিক্ষক অধ্যাপক হামিদের নেতৃত্বে পরিচালিত চলমান ঐ জরিপে ইতিমধ্যে বেশকিছু ফলাফল এসেছে। তাতে বলা হচ্ছে, এ বছর আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গুর কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের নিজস্ব খরচ দাঁড়াবে প্রায় ২৭৮ কোটি টাকা। ওই খরচের মধ্যে রয়েছে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ৪১ জন ডেঙ্গুতে মারা যাওয়ার কারণে অর্থনৈতিক যে ক্ষতিটি হয়েছে সেই হিসাবটি, যা প্রায় ২২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর গড় খরচ ৫ হাজার ৩৩২ টাকা। অন্যদিকে এ’ ক্যাটাগরির বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর গড় খরচ দেড় লাখ টাকা বি’ ক্যাটাগরির বেসরকারী হাসপাতালে ডেঙ্গুর রোগীর গড় খরচ ৫৩ হাজার ৫০০ টাকা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ হামিদ বলেন, ‘মানুষ সাইকোলজিক্যাল যে ট্রমার ভেতর দিয়ে গেছে, বিশেষ করে ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকে। হাসপাতালে যাচ্ছে, সিট পাওয়া যাচ্ছে না। সেটা যদি হিসাবের মধ্যে নিয়ে আসা হয় তাতে খরচ অনেক দাঁড়াবে।’

ডেঙ্গুর কারণে এমন বাড়তি খরচ থেকে সাধারন মানুষকে বাঁচাতে এখনই পরিকল্পনা নেয়ার ওপর জোর দিলেন অধ্যাপক হামিদ। তিনি বলেন, ‘এরজন্য মাস্টারপ্ল্যান দরকার। যদি প্রকোপ কমে গেছে বলে থেমে যাই তাহলে ঠিক হবে না। পরবর্তী বছরে যে এর চেয়ে বড় আকারে আসবে না তাতো বলা যায় না।’

জরিপে খরচের যে হিসাব এসেছে, তা কেবল হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের। তবে হাসপাতলে ভর্তি না হয়ে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা বাবদ আরো কত খরচ হয়েছে সেই হিসাবটিও বের করা প্রয়োজন বলে মত দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।