আন্তর্জাতিক

আমাজনের মতো আগুন জ্বলছে আফ্রিকার জঙ্গলেও

Advertisements

ব্রাজিলের আমাজনের জঙ্গলের আগুন নিয়ে উৎকণ্ঠায় সারা বিশ্ব। পৃথিবীর ফুসফুস আমাজনের আগুন এখনও পর্যন্ত নেভানো সম্ভব হয়ে ওঠেনি। এরমধ্যেই আবার ‘পৃথিবীর দ্বিতীয় ফুসফুস’ নামে পরিচিত আফ্রিকার জঙ্গলও ভয়াবহ আগুনের গ্রাসে পড়েছে।

মধ্য ও দক্ষিণ আফ্রিকার কঙ্গো বেসিনের জঙ্গলে দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুন। সম্প্রতি নাসার উপগ্রহ-চিত্রে ধরা পড়েছে সেই ছবি। আফ্রিকার ১০ লাখ বর্গমাইলেরও বেশি বনাঞ্চল পুড়ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, গ্যাবন, কঙ্গো, ক্যামেরুন এবং ম্যাডাগাস্কার জুড়ে বিস্তৃত আফ্রিকার এই অরণ্য।

আমাজনের পরে আফ্রিকার কঙ্গো বেসিনের জঙ্গলই পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম রেনফরেস্ট। আমাজনকে ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ বলা হয়। আর কঙ্গোর জঙ্গলকে ‘পৃথিবীর দ্বিতীয় ফুসফুস’ বলে অভিহিত করেন পরিবেশবিদরা।

আগুনের লেলিহান শিখায় জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে পৃথিবীর দুই ফুসফুসই। পরিবেশবিদদের মতে, আমাজনের জঙ্গলের আগুন ভয়াবহ পরিস্থিতি ধারণ করায় এখন তা সারা বিশ্বের নজর কেড়েছে। কিন্তু বিশ্বজুড়েই জঙ্গলে আগুন লাগানোর মাধ্যমে জমি দখল চলছে। নিরক্ষরেখা অঞ্চলের জঙ্গলেই এই ধরনের আগুনের সংখ্যা বেশি। জঙ্গল ধ্বংস করে সেই অঞ্চল চাষের জমি হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে। এর পেছনে বড় বহুজাতিক সংস্থাগুলো মদদ দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

গত ৪৮ ঘণ্টায় উপগ্রহ চিত্র অনুযায়ী অ্যাঙ্গোলাতে জঙ্গলে প্রায় ৬ হাজার ৯০২টি স্থানে আগুন জ্বলছে। কঙ্গোতে প্রায় ৩ হাজার ৩৯৫টি স্থানে জ্বালানো হয়েছে আগুন।

তবে, পরিবেশবিদদের মতে ব্রাজিলের তুলনায় এখনও কিছুটা কম ক্ষতির মুখে দক্ষিণ আফ্রিকার জঙ্গল। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হলে দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

চলতি সপ্তাহে আমাজনের আগুন নিয়ে আলোচনায় সরগরম হয়ে ওঠে ফ্রান্সের জি-৭ আন্তর্জাতিক সম্মেলন। আমাজনের আগুন নেভাতে ব্রাজিলকে আর্থিক সাহায্যের প্রস্তাবও দেয় বিশ্বের সাতটি দেশ। কিন্তু সেই সাহায্য গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট। সেই সময়েই টুইটারে ব্রাজিলের পাশাপাশি আফ্রিকার জঙ্গলের আগুন নিয়ে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো।