আফিফের বিধ্বংসী ব্যাটিং-এ জয় দিয়ে শুরু বাংলাদেশের – C News
খেলার খবর

আফিফের বিধ্বংসী ব্যাটিং-এ জয় দিয়ে শুরু বাংলাদেশের

বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান আফিফ হোসেনের বিধ্বংসী ব্যাটিং নৈপুন্যে জয় দিয়ে ত্রিদেশীয় টি-২০ শুরু করলো স্বাগতিক বাংলাদেশ। আজ টুর্নামেন্টে ও নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ৩ উইকেটে হারিয়েছে জিম্বাবুয়েকে। বৃস্টি বিঘিœত ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ১৮ ওভারে ৫ উইকেটে ১৪৪ রানের সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ে। ৩২ বলে অপরাজিত ৫৭ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন রায়ার্ন বার্ল। জবাবে আফিফের ২৬ বলে ৫২ রানের সুবাদে দারুন এক জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ।
বৃষ্টির কারনে মাঠ ভেজা থাকায় নির্ধারিত সময় সিরিজের প্রথম ম্যাচটি শুরু হতে পারেনি। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরুর নির্ধারিত সময় ছিলো। তবে দেড় ঘন্টা পর রাত আটটায় শুরু হওয়া ম্যাচটির দৈর্ঘ নামিয়ে আনা হয় ১৮ ওভারে। টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং বেছে নেয় বাংলাদেশ।
বল হাতে বাংলাদেশের পক্ষে ইনিংস শুরু করেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। প্রথম ওভারে ৭ রান দেন সাকিব। বাংলাদেশের পক্ষে পরের ওভারে আক্রমনে আসেন অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা বাঁ-হাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। নিজের প্রথম ডেলিভারিতেই উইকেট তুলে নেন তিনি। জিম্বাবুয়ের ওপেনার ব্রেন্ডন টেইলরকে শিকার করেন তাইজুল। ফলে বিশ্বের ১৫তম ও বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে টি-২০র অভিষেকে প্রথম ডেলিভারিতে উইকেট তুলে নেয়ার রেকর্ড গড়েন তাইজুল।
দলীয় ৭ রানে টেইলরকে হারালে দলের হাল ধরেন আরেক ওপেনার ও অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজা এবং ক্রেইগ আরভিন। মারমুখী মেজাজে ব্যাট করতে থাকেন তারা। তাই দলের স্কোর অর্ধশত স্পর্শ করে। কিন্তু এরপরই এই জুটিকে বিচ্ছিন্ন করেন বাংলাদেশের কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। ১৪ বলে ১১ রান করা আরভিনকে বিদায় দেন ফিজ। এই জুটি ৩৩ বলে ৪৪ রান যোগ করেন।
আরভিনের বিদায়ের পর তাসের ঘরের মত ভাঙ্গতে শুরু করে জিম্বাবুয়ের মিডল-অর্ডার। ৫১ রানে ২ থেকে ৬৩ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। মাসাকাদজা ২৬ বলে ৫টি চার ও ১টি ছক্কায় ৩৪, সিন উইলিয়ামস ২ ও টিমিচেন মারুমা ১ রান করেন। মাসাকাদজাকে শিকার করেন সাইফউদ্দিন, উইলিয়ামসকে আউট করেন মোসাদ্দেক হোসেন। রান আউট হন মারুমা।
দশম ওভারে ৬৩ রানে পঞ্চম উইকেট হারিয়ে বড় ধরনের চাপে পড়ে যায় জিম্বাবুয়ে। তবে দলকে চাপ থেকে মুক্ত করেন রায়ার্ন বার্ল ও টিনোটেন্ডা মুতোমবদজি। ষষ্ঠ উইকেটে ব্যাট হাতে জ্বলে উঠেন তারা। মারমুখী মেজাজে পাল্টা আক্রমন করে বাংলাদেশের বোলারদের লাইন-লেন্থহীন করে দেন বার্ল। তাকে সঙ্গ দেন মুতোমবদজি। বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান বার্লের চার-ছক্কায় খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশের বোলাররা। তাই শেষ ৫১ বল থেকে অবিচ্ছিন্ন ৮১ রান যোগ করেন বার্ল-মুতোমবদজি। ফলে ৫ উইকেটে ১৪৪ রানের লড়াকু স্কোর পায় জিম্বাবুয়ে।
৫টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৩২ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি তুলে ৫৭ রানে অপরাজিত থাকেন বার্ল। ইনিংসের ১৬তম ও সাকিবের চতুর্থ ওভার থেকে ৩০ রান নিয়ে ২৮তম বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন বার্ল। ঐ ওভারের চিত্রটা এমন ছিলো- ৬,৪,৪,৬,৪,৬।
১টি করে চার-ছক্কায় ২৬ বলে ২৭ রান করে অপরাজিত থাকেন মুতোমবদজি। বাংলাদেশের তাইজুল-সাইফউদ্দিন-মুস্তাফিজুর-মোসাদ্দেক ১টি করে উইকেট নেন।
১৪৫ রানের জবাবে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার লিটন দাস ও সৌম্য সরকার। প্রথম ১৭ বলে ২৬ রান তুলে ফেলেন তারা। তবে তৃতীয় ওভারের শেষ বলে আউট হয়ে যান লিটন। তেন্ডাই চাতারার ইর্য়কার ডেলিভারিতে বোল্ড হন লিটন। ১টি করে চার-ছক্কায় ১৪ বলে ১৯ রান করেন লিটন।
লিটন মারমুখী থাকলেও, সৌম্য ছিলেন সতর্ক। তবে পরের ওভারের প্রথম বলেই থামতে হয় সৌম্যকে। জিম্বাবুয়ের কাইল জার্ভিসের স্লোয়ার ডেলিভারি না বুঝে খেলতে গিয়ে আকাশে বল তুলে ক্যাচ আউট হন সৌম্য। ৭ বলে ৪ রান করেন তিনি।

দলীয় ২৬ রানেই দুই ওপেনারের বিদায়, বাংলাদেশকে সমস্যায় ফেলে দেয়। সেই সমস্যা আরও বড় আকারে নিয়ে যান জার্ভিস ও চাতারা। সৌম্যকে ফেরানোর ওভারেই মুশফিকুর রহিমকে বোকা বানান জার্ভিস। তার ইন-সুইং বাউন্সারে কুপোকাত মুশফিক। ১ বলে শুন্য রান করেন তিনি। পরের ওভারে সাকিবকে স্লিপে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন চাতারা। ৩ বলে ১ রান করে ফিরেন সাকিব। ফলে ২৯ রানেই ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
এ অবস্থায় বাংলাদেশকে খেলায় ফেরানোর চেষ্টা করেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও সাব্বির রহমান। দেখেশুনে খেলে রানের চাকা সচল রাখার চেষ্টা করেন তারা। এতে অর্ধশতকে পৌঁছায় বাংলাদেশের স্কোর। এমন অবস্থায় মাহমুদুল্লাহ-সাব্বিরের কাছ থেকে বড় জুটির প্রত্যাশা করছিলো বাংলাদেশ। কিন্তু দু’জনই হতাশ করলেন।
দলীয় ৫৬ রানে মাহমুদুল্লাহ ও ৬০ রানে সাব্বির আউট হন। ২৭ রানের জুটি ছিলো তাদের। মাহমুদুল্লাহ ১৪ রান করে বার্লের বলে এবং সাব্বির ১৫ রান করে মাদজিভার বলে আউট হন। তাদের বিদায়ে লড়াই থেকে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ। তখন ম্যাচের ৯ দশমিক ৩ ওভার ছিলো। এ অবস্থায় ৫১ বলে ৮৫ রান দরকার পড়ে বাংলাদেশের।
আস্কিং রান রেট বেড়ে যাওয়ায় উইকেটে গিয়েই মারমুখী মেজাজে ব্যাট করেন দুই নতুন ব্যাটসম্যান মোসাদ্দেক হোসেন ও আফিফ হোসেন। দু’জনের মারমুখী ব্যাটিং-এ ১২ দশমিক ১ ওভারেই শতরানে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। দ্রুত রান তুলে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান আফিফ। মোসাদ্দেক স্ট্রাইক দিচ্ছিলেন আফিফকে। এতে স্ট্রাইকে গিয়েই বাউন্ডারি-ওভার বাউন্ডারিতেই মনোযোগি হন আফিফ। আফিফের দ্রুত গতির ইনিংসের কারনে ১৬ ওভার শেষে ১৩০ রানে পৌঁছে যায় বাংলাদেশের স্কোর। ফলে শেষ ১২ বলে ১৫ রান প্রয়োজন পড়ে টাইগারদের। কাজটি যে বেশ সহজই ছিলো বাংলাদেশের।
১৭তম ওভারের শেষ বলে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচে টি-২০ ক্যারিয়ারে প্রথম হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন আফিফ। এ জন্য তিনি বল খেলেছেস ২৪টি। এসময় ৮টি চার ও ১টি ছক্কা মারেন তিনি।
তবে ব্যক্তিগত ৫২ রানে আউট হন ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হওয়া আফিফ। তখন জয় থেকে ৪ বলে ৩ রান দূরে বাংলাদেশ। এরপর মোসাদ্দেকের সাথে জুটি বেঁেধ ২ বল বাকী থাকতে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন সাইফউদ্দিন।

২৬ বলে ৫২ রান করেন আফিফ। ২টি ছক্কায় ২৪ বলে অপরাজিত ৩০ রান করেন মোসাদ্দেক। ২ বলে ৬ রান নিয়ে মাঠ ছাড়েন সাইফউদ্দিন।
আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর এই ভেন্যুতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।
আগামীকাল সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *