জাতীয়

প্রয়োজনে আমি থানায় গিয়ে ওসিগিরি করবো: ডিমপি কমিশনার

Advertisements

থানা পর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের আচরণগত পরিবর্তনে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নবনিযুক্ত কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, থানায় পুলিশ সদস্যদের আচরণগত কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না হলে আমি নিজে থানায় গিয়ে ওসিগিরি করবো। সিনিয়র অফিসারদের থানায় বসিয়ে দেবো। ডিসিদের সপ্তাহে অন্তত একদিন থানায় বসিয়ে দেবো। তারা থানায় বসে ওসিগিরি করবেন।

php glass

রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম এসব কথা বলেন।

থানা পুলিশকে অগ্রাধিকারের কথা জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, থানা থেকে বের হয়ে মানুষ যেন আশ্বস্ত হয়ে ফিরতে পারেন, থানায় সেবা নিতে যাওয়া কাউকে যেন কোনো ধরনের হয়রানি না করা হয়, সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে ওসি-ডিসিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পরেই ঢাকার সবথানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও উপ-কমিশনারদের (ডিসি) সঙ্গে বসেছিলাম। তাদের প্রয়োজনীয় ও কঠোর মনিটরিংয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষ যাতে পুলিশ ভীতি থেকে বের হতে পারে সেই ব্যবস্থা নিতে হবে।’

তিনি বলেন, থানায় যেন অসহায় বা অপরাধের শিকার হয়ে কোনো মানুষ হয়রানি ছাড়া মামলা ও জিডি করতে পারে, থানা থেকে বের হলে যেন তার মধ্যে এই বোধ থাকে যে, পুলিশ তার সহযোগিতা করবে তা নিশ্চিত করতে হবে।

শফিকুল ইসলাম বলেন, সাধারণ মানুষ যাতে পুলিশের দ্বারা হয়রানি, চাঁদাবাজির শিকার, পুলিশি সেবার বিপরীতে যাতে আর্থিক লেনদেন না হয়, সেদিকে নজর রাখবো। কারও বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকার ওসিদের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ঢাকার থানাতেই বদলি করা হয়, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মহানগর পুলিশে কাজ করার একটি আলাদা অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। মহানগর ও জেলায় কাজ করার পার্থক্য ব্যাপক। ওসিদের আচরণ যেন হয়রানিমূলক না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি রয়েছে। কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকলে আমাদের জানাবেন, ব্যবস্থা নেবো।

‘যদি তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকে, তাহলে ঢাকার এক থানার ওসি আরেক থানায় দিতে আইনত বাধা নেই। কোন অফিসার দিয়ে কোন কাজ হয় আমরা জানি, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তাদের পোস্টিং দেওয়া হয়। সম্প্রতি ডিএমপি থেকে অনেক এসি, ডিসিকে ঢাকার বাইরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাহলে ওসিদের পোস্টিং দিতে সমস্যা কোথায়।’

ডিএমপি কমিশনার বলেন, সিনিয়র অফিসার ও ওসিদের কাজের পার্থক্য রয়েছে। থানা লেভেলের কাজের ধরণ আলাদা, পুরো এলাকার অলিগলি, কারা কোন অপরাধে জড়িত তা জানতে হয়।

‘তবুও আমরা নতুন অফিসার তৈরি করছি। আপনারা দেখেছেন, আমরা কিছুদিন পরপর ওসি তদন্ত থেকে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ওসি হিসেবে পোস্টিং দিচ্ছি। তবে কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে অবশ্যই সরিয়ে দেওয়া হয়।’