জাতীয়

আরও দুটি বোয়িং কেনার ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রীর

Advertisements

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য আরও দুটি বোয়িং কেনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাত্রীসেবার মান বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার বিকেলে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে বিমানের বহরে চতুর্থ ড্রিমলাইনার ‘রাজহংস’–এর যুক্ত হওয়া উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে বিমানগুলো রয়েছে, সেগুলো ছাড়াও বিমানের বহরে আরও তিনটি ড্যাশ বোম্বাডিয়ার বিমান যোগ হবে। আমরা আরও একটি খবর পেয়েছি যে বোয়িং শিগগিরই তাদের আরও দুটি বিমান বিক্রয় করবে, তা কেউ অর্ডার দিয়ে নেয়নি। সুযোগটা আমরা নেব।’

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের রিজার্ভের পরিমাণ ভালো রয়েছে। কাজেই নিজস্ব অর্থে আরও দুটি উড়োজাহাজ ক্রয় করলে সমস্যা হবে না। তিনি যাত্রীসেবা বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে যাত্রী পরিবহন বৃদ্ধিতেও বিমান–সংশ্লিষ্টদের মনোনিবেশ করার নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সব সময় আমরা রিজার্ভ হিসাব করি এ কারণেই, কেননা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ-দুর্বিপাক দেখা দিলে আমাদের যদি খাদ্য কিনতে হয়, তাহলে যেন তিন মাসের খাদ্য আমরা কিনতে পারি, সে পরিমাণ অর্থ জমা থাকতে হবে। এর অতিরিক্ত অর্থ রেখে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। সেটা আমরা উন্নয়নের কাজে লাগাতে পারি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইতিমধ্যেই খাদ্য উৎপাদনে আমরা স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। কাজেই খুব যে আমরা বিপদে পড়ব তা নয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য যে পরিমাণ মজুতের দরকার, তা আমরা মজুত রাখছি।’

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মহিবুল হক, বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল (অব.) মুহাম্মাদ এনামুল বারী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও মোকাব্বির হোসেইন স্বাগত বক্তব্য দেন। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী টারমার্কে ফিতা কেটে বিমানবহরের চতুর্থ ড্রিমলাইনার রাজহংসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী উড়োজাহাজে উঠে এটি ঘুরে দেখেন এবং পাইলট ও ক্রুদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় দেশ ও জাতির শান্তি-সমৃদ্ধি এবং অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

চতুর্থ ড্রিমলাইনার রাজহংস উড়োজাহাজটি ৪৩ হাজার ফুট উচ্চতায় ওয়াই-ফাই পরিষেবা দেবে। যাত্রীরা আকাশ থেকে ইন্টারনেটে বিশ্বের যেকোনো স্থানে বন্ধু ও স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।

বিমানবহরের চতুর্থ ড্রিমলাইনার বিমান রাজহংসে উঠে এটি ঘুরে দেখেন  প্রধানমন্ত্রী। তিনি পাইলট ও ক্রুদের সঙ্গে কথা বলেন। ছবি: বাসসবিমানবহরের চতুর্থ ড্রিমলাইনার বিমান রাজহংসে উঠে এটি ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি পাইলট ও ক্রুদের সঙ্গে কথা বলেন। ছবি: বাসস

১৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ বিমানের বহরে চতুর্থ বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার যুক্ত হয়েছে। এটি জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটির বহরে যুক্ত হওয়া ১৬তম উড়োজাহাজ। যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের বিমান কারখানা থেকে ওই দিনই বিকেলে সরাসরি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে এটি। ওই দিন বিমানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্যাপ্টেন ফারহাত হাসান জামিল ও অন্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জলকামান স্যালুট জানিয়ে বিমানবন্দরে ড্রিমলাইনারটি গ্রহণ করেন।

এর আগে গত বছরের আগস্ট ও ডিসেম্বর মাসে প্রথম ও দ্বিতীয় বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ‘আকাশবীণা’ ও ‘হংসবলাকা’ ঢাকায় এসে পৌঁছায়। গত জুলাই মাসে তৃতীয় বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ‘গাঙচিল’ ঢাকায় অবতরণ করে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ড্রিমলাইনারগুলোর নাম রাখেন।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ২০০৮ সালে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং কোম্পানির ১০টি নতুন উড়োজাহাজ ক্রয়ের জন্য ২ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী বোয়িং ইতিমধ্যেই চারটি ৭৭৭-৩০০ ইআর ও দুটি ৭৩৭-৮০০ এবং চারটি ড্রিমলাইনার বিমানকে হস্তান্তর করেছে।

২৭১ আসনের ‘রাজহংস’ বোয়িং ৭৮৭-৮-কে অন্যান্য উড়োজাহাজের তুলনায় ২০ শতাংশ জ্বালানিসাশ্রয়ী উড়োজাহাজ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এটি ঘণ্টায় ৬৫০ মাইল বেগে একটানা ১৬ ঘণ্টা উড়তে সক্ষম।