Advertisements

সৌদি আরবের দু’টি প্রধান তেল-স্থাপনায় হামলায় ড্রোন ও স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে। আর সেগুলো ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইতোমধ্যে উৎক্ষেপণস্থল চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, ইরানের দক্ষিণাঞ্চল ও পারস্য উপসাগরের উত্তরাঞ্চল থেকে গত শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের তেল-স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেছেন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তারা। সৌদির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র থামাতে পারেনি, কারণ সেটি ইয়েমেন থেকে আসা সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধের জন্য দক্ষিণমুখী করা ছিল।

তবে, ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হাউতি বিদ্রোহীরা জানিয়েছেন, সৌদির আবাইক তেল শোধনাগার ও খুরাইস তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলা তারাই চালিয়েছেন।

ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত আবাইক তেল শোধনাগার। ছবি: সংগৃহীত

মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস-প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স জানিয়েছেন, তারা সব প্রমাণাদি পর্যবেক্ষণ করছেন। উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য সৌদি যাচ্ছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পে। উপসাগরীয় মিত্রদের রক্ষায় যা যা দরকার, যুক্তরাষ্ট্র তার সব করবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

তবে, সৌদিতে হামলায় জড়িত থাকার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ অস্বীকার করেছে তেহরান।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভাদ জারিফ এক টুইট বার্তা বলেন, ইয়েমেনি ভুক্তভোগীরাই এ হামলার সঙ্গে জড়িত। ইরানকে দোষারোপ করলেই পরিস্থিতি বদলাবে না। এর একমাত্র সমাধান, যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটানো।

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সৌদি-ইয়েমেন দ্বন্দ্ব বৃদ্ধি পায় ২০১৫ সালের মাঝামাঝি। ওই বছরের মার্চে হাউতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলের বেশিরভাগ অংশ নিয়ন্ত্রণ নেয় ও প্রেসিডেন্ট আবদ্রাব্বুহ মানসুর হাদিকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করে। এর পরপরই সৌদি ও তার মিত্ররা ইয়েমেনে বিমানহামলা চালায়।

ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের হিসাবমতে, সেই থেকে এ পর্যন্ত ইয়েমেনের অন্তত ৭ হাজার ২৯০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। বর্তমানে দেশটির ৮০ ভাগ জনগণেরই নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। সেখানকার অন্তত এক কোটি মানুষ জীবনধারণের জন্য সম্পূর্ণভাবে খাদ্য সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।

By Abraham

Translate »