Advertisements

রাজধানীর ক্যাসিনোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান নিয়ে যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর বক্তব্যের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের চেয়ারম্যান যুবলীগের, উনি হয়তো তার নিজস্ব মন্তব্য করেছেন। আমার এখানে কিছু বলার নেই।’

বুধবার রাজধানীতে ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে গুলশানের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে।

এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী বলেছিলেন, ‘অপরাধ করলে শাস্তির ব্যবস্থা হবে। প্রশ্ন হলো, এখন কেন অ্যারেস্ট হবে। অতীতে হলো না কেন? আপনি তো সবই জানতেন। আপনি কি জানতেন না? নাকি সহায়তা দিয়েছিলেন, সে প্রশ্নগুলো আমরা এখন তুলব। আমি অপরাধী, আপনি কী করেছিলেন? আপনি কে, আমাকে আঙুল তুলছেন? এখন বলছেন ৬০টি ক্যাসিনো আছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আপনারা কি এতো দিন আঙুল চুষছিলেন?’

এ প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন,‘সেটা ওনার নিজস্ব মন্তব্য। আপনারা দেখেছেন। আমিও দেখেছি।’

মন্ত্রী বলেন, প্রশাসন জানত কি জানত না; আমি সেখানে যাচ্ছি না। আমি বলতেছি প্রশাসন যখনই জানছে তখনই অভিযান শুরু করেছে।

‘প্রশাসন তো বসে নেই। আমাদের নজরে যেগুলো আসছে আমরা সেগুলোর ব্যবস্থা নিয়েছি। আরও যারা চিন্তা-ভাবনা করেছে আমরা অ্যাকশনে যাওয়ার পর বন্ধ করেছে। এটা আমরা জানতাম। ইদানীং আমরা শুনছিলাম এটা বেশ কয়েকটি শহরে হয়েছে। সেই তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এটা (অভিযান) হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

গ্রেপ্তারকৃত যুবলীগ নেতার টর্চার সেলের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটা আমরা শুনেছি, তবে এখনো সঠিক তথ্য পাইনি। এটা যদি হয়ে থাকে তাহলে সেটারও ব্যবস্থা হবে।

এতদিন পরে কেন অভিযান জবাবে মন্ত্রী বলেন, যখনই আমাদের কাছে খবর এসেছে, কলাবাগানে বন্ধ হয়ে গেছে। কারওয়ান বাজারে একটা উঠছিল, খবর যখন এসেছে তখনই বন্ধ করে দিয়েছি। অনেক সময় অনেক খবর আসে যেগুলো হয়তো তথ্যভিত্তিক নয়। সেগুলো হয়তো উদ্দেশ্যমূলকভাবে খবর আসে। সেগুলো গিয়ে দেখি এগুলোর ভিত্তি নেই। যে সাতটি আজকে হলো (অভিযান) এগুলো সঠিক তথ্য পাওয়ার পর আমরা অ্যাকশনে গেছি।

তিনি বলেন, আমরা আরেকটা বাড়িতে হানা দিয়েছিলাম। সেই বাড়িতে দুজন বিদেশিকে পেয়েছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আমাদের আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

বিমানবন্দরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ক্যাসিনোর মেশিন এবং বোর্ড আনা সম্ভব কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, মেশিনগুলো কখনো ওরকম অবস্থায় আসে না। এগুলো ছোট ছোট পার্সের মত হয়ে ভাগে ভাগে আসে। যেগুলো আপনার চোখেও পড়বে না। ডিক্লারেশন দিয়ে আনেনি বলেই তো তারা অপরাধী, আইন ভঙ্গ করার জন্য তাদের সবার বিচার হবে।

মন্ত্রী বলেন, শুধু ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়, এটা হলো অবৈধ কোনো ব্যবসার বিরুদ্ধে। সেটা ক্যাসিনো হোক কিংবা ক্লাব হোক কিংবা কোনো কিছু হোক; যেই কিছু অবৈধভাবে স্থাপন করবেন সেটার বিরুদ্ধে আমাদের ব্যবস্থা থাকবে।

প্রশাসনের কেউ জড়িত কিনা এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমরা কেবল অভিযান চালিয়েছি, এখন দেখব কে কতখানি সহযোগিতা করেছে, কিংবা এটার জন্য ব্যবস্থা নিয়েছে, এগুলো তদন্তের পর সবকিছু জানা যাবে। আমরা এখন দেখেছি, সিলগালা করছে, ম্যাজিস্ট্রেট তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছেন। তদন্তের পর বেরিয়ে আসবে, কে কোনটায়, কে কোনটার সঙ্গে জড়িত ছিল, কার কতখানি ভূমিকা ছিল, সেটা দেখা যাবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা সবসময় ক্লিয়ার। অপরাধ করলে কেউ পার পাবে না। যেকোনো ধরনের আইনবর্হিভূত কাজ করে থাকলে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতেই হবে। আমরা সেটিই করছি, উনি যেভাবে ডিরেকশন দিচ্ছেন।

By Abraham

Translate »