Advertisements

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি এবং তার ফরাসি সমকক্ষ ইমানুয়েল ম্যাকরন আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমন ও পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্ক সফররত দুই প্রেসিডেন্ট স্থানীয় সময় সোমবার প্রেসিডেন্ট রুহানির হোটেল স্যুইটে সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাতে দুই প্রেসিডেন্ট মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। একইসঙ্গে পরমাণু সমঝোতা রক্ষার উপায় এবং তেহরান ও প্যারিসের মধ্যে সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ করার উপায় নিয়েও আলোচনা করেন ম্যাকরন ও রুহানি।

এ ছাড়া, ইরানের প্রেসিডেন্ট মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে নয়া পরিকল্পনা তৈরি করেছেন সে বিষয়েও ম্যাকরনের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। আগামীকাল (বুধবার) ইরানের প্রেসিডেন্ট জাতিসংঘে দেয়া ভাষণে তার এ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন।

প্রেসিডেন্ট রুহানির হোটেল স্যুইটে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রেসিডেন্ট ম্যাকরন

ওই পরিকল্পনা সম্পর্কে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ এরইমধ্যে বলেছেন, বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়াই পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইরান, ইরাক, সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান ও ইয়েমেন মিলে একটি আঞ্চলিক জোট গঠন করতে পারে। তিনি বলেন, এ সহযোগিতা হবে জাতিসংঘের গঠনকাঠামোর আওতায়।

ইমানুয়েল ম্যাকরন নিউ ইয়র্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক সংক্ষিপ্ত বৈঠকের পর ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন। মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে, রুহানির সঙ্গে বৈঠকের পর ম্যাকরন আবার ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হবেন। গতমাসে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ হতে পারে।

তিনি নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের অবকাশে ওই বৈঠক হতে পারে বলেও আভাস দিয়েছিলেন। কিন্তু ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী গত সপ্তাহে আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার দেশের নীতি-অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছেন, মার্কিন সরকার পরমাণু সমঝোতায় ফিরে না আসা পর্যন্ত কোনো লেভেলেই আমেরিকার সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না।

By Abraham

Translate »