অর্থনীতি ও ব্যবসা জাতীয়

নজরদারি বাড়ায় ব্যাংক লেনদেন কমছে

Advertisements

ক্যাসিনো, জুয়া, টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে সন্দেহভাজনদের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। এই তালিকা বিস্তৃত হওয়ায় ব্যাংক লেনদেনে প্রভাব পড়েছে। সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানিয়েছে, যারাই সন্দেহভাজনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন তাদেরই ব্যাংক লেনদেন বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। অর্থাৎ তারা ব্যাংকে টাকা জমা দিতে পারবেন, কিন্তু কোনো অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন না। এর প্রভাবে অনেক শাখায় দৈনন্দিন লেনদেনে ভাটা পড়েছে।

সন্ত্রাসী কাজে অর্থায়ন ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে সন্দেহভাজন লেনদেন হলে ওই অ্যাকাউন্টে লেনদেন স্থগিত করতে পারে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা না পেলে ব্যাংক স্বপ্রণোদিত হয়ে লেনদেন স্থগিত করে দিতে পারে। এ প্রক্রিয়ায় বন্ধ রাখা যায় সাত মাস সময় পর্যন্ত। প্রথমে এক মাসের জন্য সাময়িক বন্ধ করা যায়। পরবর্তীতে আরো ছয়বার বাড়িয়ে সাত মাস টেনে নেয়া হয়। তবে অ্যাকাউন্টধারী আইনের আওতায় এলে আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা কোনো সংস্থা আদালত থেকে স্থায়ী স্থগিতাদেশ আনলে হিসাব বন্ধ করার সময়সীমা দীর্ঘ হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চলমান আন্দোলনে বিভিন্ন দিক থেকে ব্যাংকগুলোর কাছে সন্দেহভাজনদের তালিকা আসছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, দুর্নীতি দমন কমিশন, বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তালিকা আসছে। এর বাইরেও যাদের বিরুদ্ধে পত্রপত্রিকায় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাম উঠে আসছে তাদের বিষয়ে ব্যাংক স্বপ্রণোদিতভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এ বিষয়ে দ্বিতীয় প্রজন্মের একটি ব্যাংকের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ইউনিটের প্রধান গতকাল নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, সরবরাহকৃত তালিকা ছাড়াও ব্যাংক স্বপ্রণোদিত হয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার উদ্দেশ্যই হলো নিজেদের নিরাপত্তায় থাকা। কারণ কোনো চলমান অভিযানের সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করলে আর ওই ব্যক্তি আইনের আওতায় এলে পরবর্তীতে এর দায়দায়িত্ব ব্যাংককেই বহন করতে হয়। এ কারণেই ব্যাংকগুলো স্বপ্রণোদিত হয়ে ব্যাংক লেনদেন বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।

দেশের নতুন প্রজন্মের একটি ব্যাংকের তহবিল ব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সন্দেহভাজনদের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। সমস্যা দেখা দিচ্ছে ব্যাংক লেনদেনের ক্ষেত্রে। সন্দেহভাজনদের তালিকায় এমনো অনেক ব্যক্তি আছেন যার গ্রুপে দৈনন্দিন বড় অঙ্কের লেনদেন হতো। বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যের কাজে তাদের ব্যাংক লেনদেন হতো। এখন গ্রুপের কোনো এক ব্যক্তি চলমান অভিযানে সন্দেহভাজনদের তালিকায়পড়ায় সংশ্লিষ্ট ওই গ্রুপের পুরো লেনদেনই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার এমনই একটি গ্রুপের অর্থ উত্তোলন করতে এলে তাদের ফেরত দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, উপরের নির্দেশে লেনদেন বন্ধ করা হয়েছে। পরে লেনদেনের বিষয়ে অবহিত করা হবে।

অপর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন তালিকায় পড়তে পারেন এমন অনেক গ্রাহক আগেভাগেই ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন করে নিচ্ছেন। এটা অনেক সময় বুঝেও সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে তেমন কিছু বলা যাচ্ছে না। কারণ সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে এখনো সন্দেহভাজনদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এভাবে কিছু কিছু শাখায় অর্থ উত্তোলনের হার বেড়ে গেছে। তবে সমস্যায় পড়ছে নতুন প্রজন্মের কিছু ব্যাংক। কারণ রাজনীতির প্রভাবে নতুন প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর লাইসেন্স পাওয়া গেছে। ব্যাংকগুলো গ্রাহককে বাগিয়ে আনার একটিই উপায় ছিল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের নিজেদের ব্যাংকে নিয়ে আসা। নতুন ব্যাংকগুলোতে লেনদেন করা ও বড় অঙ্কের আমানত রাখার ক্ষেত্রে মূল দল ও অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীই বেশি ছিল। চলমান অভিযানে যারাই বিভিন্ন টেন্ডারবাজির সাথে জড়িত ছিলেন, বা নানা ব্যবসা-বাণিজ্যের সাথে জড়িত ছিলেন তাদের অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে আগেভাগেই ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন করছেন। অনেকেই ব্যাংকের শাখায় এসে শাখা ব্যবস্থাপকদের সাথে যোগাযোগ করছেন। ফলে কম ডিপোজিট পাওয়া শাখাগুলো এখন অনেকটা চাপে রয়েছে।