আন্তর্জাতিক

তুর্কি আগ্রাসন মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধ সিরিয়ার সেনাবাহিনী ও স্থানীয় কুর্দি জনগণ

Advertisements

সাত দিন আগে তুরস্ক সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে হামলা শুরুর পর আগ্রাসন ঠেকানোর জন্য সিরিয়ার সেনাবাহিনীও দেশটির উত্তরাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের নির্দেশে গত ৯ অক্টোবর তুর্কি সেনারা সিরিয়ার কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় হামলা শুরু করে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আমেরিকার সবুজ সংকেত পেয়ে তুরস্ক সিরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। কেননা মার্কিন সেনারা সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল থেকে সরে যাওয়ার সাথে সাথে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট সামরিক হামলার নির্দেশ দেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টুইট বার্তায় বলেছেন, “অযথা যুদ্ধবিগ্রহ থেকে আমেরিকাকে সরিয়ে আনার সময় এসেছে।”

এদিকে, সিরিয়ার বিরুদ্ধে তুরস্কের আগ্রাসন শুরুর পরপরই কুর্দিদের কয়েকটি গ্রুপ এবং উত্তরাঞ্চলীয় বেশিরভাগ সাধারণ মানুষ তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসার জন্য সিরিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে আবেদন জানিয়েছে। ওই এলাকার জনগণ তুর্কি আগ্রাসন মোকাবেলায় সিরিয়ার সেনাবাহিনীর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এ অবস্থায় সিরিয়ার সেনাবাহিনীও উত্তরাঞ্চলীয় আল হাসাকে প্রদেশের জনগণের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সেখানে প্রবেশ করছে এবং বিপুল সংখ্যক জনতা সেনাবাহিনীর আগমনকে স্বাগত জানিয়েছে। স্থানীয় কুর্দি গোষ্ঠীর সঙ্গে সমঝোতা হওয়ার পরপরই সিরিয়ার সেনাবাহিনী তুর্কি সেনাদের আগ্রাসন মোকাবেলায় উত্তরাঞ্চলের দিকে রওনা দিয়েছে।

উত্তরাঞ্চলে সিরিয়ার সেনা উপস্থিতি কয়েকটি দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, নিজ দেশের জনগণের জানমাল রক্ষা সেনাবাহিনীর প্রধান দায়িত্ব। এ কারণে উত্তরাঞ্চলের জনগণ সিরিয়ার সেনা উপস্থিতিকে ব্যাপকভাবে স্বাগত জানিয়েছে এবং দেশের যেকোনো সীমান্তে বিদেশি আগ্রাসন কিংবা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে মোকাবেলা করা তাদের প্রধান কর্তব্য। সিরিয়ার সেনাবাহিনী ও জনগণের মধ্যকার এই সহযোগিতা মূলত আরব ও কুর্দিদের ঐক্যবদ্ধ করেছে। গত নয় বছর আগেও এ ধরনের ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

দ্বিতীয়ত, সিরিয়ার সরকার ও সেনাবাহিনী দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাকে তাদের প্রধান দায়িত্ব বলে মনে করে এবং কোন্‌ সীমান্ত এলাকায় হুমকি সৃষ্টি হয়েছে তা মোটেই গুরুত্বপূর্ণ নয়। সিরিয়ার উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল মিকদাদ বলেছেন, দেশের ভূমি রক্ষা করা হবে এবং কাউকে এক ইঞ্চি ভূমি দখল করার সুযোগ দেয়া হবে না।

তৃতীয়ত, তুরস্কের আগ্রাসন মোকাবেলায় সীমান্তে সিরিয়ার সেনাবাহিনী প্রেরণের ঘটনা থেকে এটাই বোঝা যায়, সরকার চায় না স্থানীয় কুর্দিরা তাদের নিরাপত্তার জন্য বাইরের কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল থাকুক।

চতুর্থত, সিরিয়ায় তুরস্কের আগ্রাসন এবং এর প্রতি আমেরিকার সমর্থন থেকে বোঝা যায়, সন্ত্রাস অধিকৃত ইদলিব শহর উদ্ধার অভিযানে নিজেদের কৃতিত্ব জাহির করার চেষ্টা করছে তুরস্ক।

তুরস্কের সেনাবাহিনী এমন সময় সিরিয়ায় হামলা চালাচ্ছে যখন সন্ত্রাসীরা ইদলিবে চাপের মুখে রয়েছে এবং সিরিয়ার সেনাবাহিনী ও তার মিত্ররা ইদলিবে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে। অথচ মাত্র কিছুদিন আগেও তুরস্ক ও আমেরিকা সন্ত্রাসীদের দখলে থাকা ইদলিবে সামরিক অভিযান চালানোর বিরোধী ছিল।