আন্তর্জাতিক

স্বাধীনতাকামীদের বিক্ষোভ-ধর্মঘটে অচল বার্সেলোনা

Advertisements

স্বাধীনতার দাবিতে গণভোট আয়োজনের কারণে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল কাতালোনিয়ার নয় নেতাকে কারাদণ্ড দেওয়াকে কেন্দ্র করে সোমবার (১৪ অক্টোবর) কাতালোনিয়ায় বিক্ষোভ শুরু করেন স্বাধীনতাকামী কাতালানরা। শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) বিক্ষোভের পঞ্চম দিনে শাস্তির প্রতিবাদ জানাতে কাতালোনিয়ার পতাকা হাতে রাস্তায় নেমে সেন্ট্রাল বার্সেলোনা অচল করে দিয়েছেন প্রায় আধা লাখ মানুষ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এ তথ্য জানা গেছে।

স্পেনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে পুলিশের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অন্তত ৫ লাখ ২৫ হাজার কাতালান বিক্ষোভকারী বার্সেলোনা অবরোধ করে রাখেন। ‘স্বাধীনতা চাই’, ‘এই রাস্তা আমাদের’, ‘রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তি চাই’, এসব স্লোগানে মুখর হয়ে উঠেছিল বার্সেলোনার রাজপথ।

প্রথমদিকে এই বিশাল জনসমাবেশ শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরের দিকে তা সহিংস হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কয়েকজন রাস্তা অবরোধ করে ময়লার কনটেইনারে আগুন ধরিয়ে দেন। তারা দাঙ্গা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়লে পুলিশও তাদের দিকে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোড়ে এবং লাঠি হাতে বিক্ষোভকারীদের পাল্টা ধাওয়া করে।

শুক্রবার দুপুরে কাতালোনিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মিছিল করে বার্সেলোনার কেন্দ্রে এসে জড়ো হন বিক্ষোভকারীরা। এতে গোটা শহর অচল হয়ে যায়। বুধবার (১৬ অক্টোবর) থেকে জিরোনা, তারাগোনা, ভিচ, মারতোরেলসহ অন্য শহর থেকে পায়ে হেঁটে কাতালোনিয়ার রাজধানী বার্সেলোনায় জড়ো হন তারা।

তবে, এক ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িত অনেকেই ডানপন্থি দুর্বৃত্ত ও কাতালোনিয়ার স্বাধীনতাবিরোধী। ফুটেজে দেখা যায়, তারা স্পেনের জাতীয় পতাকা বহন করে ‘নাৎসি স্যালুট’ দিচ্ছিল।

রাতে পুলিশ-বিক্ষোভকারীদের মধ্যকার সংঘর্ষ প্রায় যুদ্ধে পরিণত হয়। ছবিতে দেখা যায়, রাস্তায় ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য পাথর, ব্যারিকেডে আগুন জ্বলছে, আকাশ অন্ধকার হয়ে গেছে কালো ধোঁয়ায়।

এদিকে, বিক্ষোভ-সংঘর্ষের কারণে বার্সেলোনার এ পর্যন্ত আর্থিক ক্ষতি হয়েছে অন্তত ১৫ লাখ ইউরো। পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে দু’পক্ষেরই শতাধিক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শুক্রবার কাতালোনিয়ায় ১৬ বিক্ষোভাকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।