খেলার খবর

সাকিবের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে বিসিবি!

Advertisements

ধর্মঘটের রেশ না কাটতেই নতুন ঝামেলায় পড়তে যাচ্ছেন সাকিব আল হাসান। দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি টেলিকম কোম্পানির সঙ্গে নিয়মবহির্ভূত চুক্তি করার অভিযোগে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

গত ২২ অক্টোবর টেলিকম কোম্পানি গ্রামীণফোনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে যুক্ত হয়েছেন সাকিব। বোর্ডের কাছে ১১ দফা দাবিতে ক্রিকেটারদের ধর্মঘট ডাকার ঠিক একদিন পর এই চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। কিন্তু খেলোয়াড়দের সঙ্গে বিসিবি’র চুক্তি অনুযায়ী, একজন জাতীয় ক্রিকেট দলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ কোনো খেলোয়াড় টেলিকম কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন না।

শনিবার (২৬ অক্টোবর) দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি দৈনিককে বিসিবি প্রধান জানিয়েছেন, ‘সে (সাকিব) কোনো টেলিকম কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করতে পারে না। এবং কেন পারে না তা আমাদের চুক্তিপত্রে উল্লেখ করা আছে।’

তিনি বলেন, ‘রবি (টেলিকম) আমাদের টাইটেল স্পন্সর ছিল এবং গ্রামীণফোন বিড না করেও এক কোটি কিংবা ২ কোটি টাকা দিয়ে কয়েকজন খেলোয়াড়কে বাগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু এতে কি হলো? তিন বছরে বোর্ড ৯০ কোটি টাকা হারালো। কয়েকজন খেলোয়াড় লাভ করবে আর বোর্ড ভুগবে। এটা হতে পারে না। এজন্য তাদের চুক্তিতে সব উল্লেখ করা আছে।’

‘আমার ধারণা, এমনকি মন্ত্রণালয় থেকেও তাদের না জানিয়ে টেলিকম কোম্পানির সঙ্গে খেলোয়াড়দের চুক্তি স্বাক্ষরে নিষেধ করা হয়েছে। তাহলে সে কিভাবে আমাদের না জানিয়ে চুক্তি করল? আর টাইমিংটা দেখুন। এটা (চুক্তি স্বাক্ষর) এমন সময় করে হয়েছে যখন (ধর্মঘটের কারণে) ক্রিকেট বন্ধ,’ যোগ করেন পাপন।

সাকিবকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো নিয়ে বিসিবি প্রধান বলেন, ‘আমরা তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি। এ বিষয়ে আমরা কাউকে ছাড় দেবো না। আমরা জবাব চাইবো। আমরা কোম্পানি ও খেলোয়াড়, দুই পক্ষের কাছেই জবাব চেয়ে নোটিশ দিতে বলেছি। অর্থাৎ আমরা সাকিবকে একটা সুযোগ দিতে চাই নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের জন্য। নোটিশের সন্তোষজনক জবাব না দিতে পারলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে বিসিবি’র প্রধান নির্বাহী নিজামুদ্দিন চৌধুরী ‘ক্রিকবাজ’কে জানিয়েছেন, গ্রামীণফোনের সঙ্গে সাকিবের চুক্তির বিষয়টি তারা জানতেন না। তাছাড়া যেকোনো বিজ্ঞাপন বা চুক্তি করার আগে সব খেলোয়াড়কেই বোর্ডের অনুমতি নিতে হয়।

বিসিবি’র প্রধান নির্বাহী বলেন, ‘আমরা গ্রামীণফোনের সঙ্গে সাকিবের চুক্তির বিষয়টি জানতাম না। সাধারণত যা হয়, জাতীয় স্পন্সরদের সঙ্গে কোনো ঝামেলা এড়াতে আমরা খেলোয়াড়দের কোনো কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করতে নিষেধ করি। এখন আমাদের জাতীয় দলের স্পন্সর ইউনিলিভার। তবে তাদের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ প্রায় শেষ। এখন আমাদের কোনো খেলোয়াড় যদি কোনো টেলিকম কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে তাহলে অন্য কোনো টেলিকম কোম্পানি বিড করার আগ্রহ হারাবে।’

এর আগে ২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের আগে জাতীয় দলের ওপেনার তামিম ইকবালকে ৩ কোটি টাকার অফার দিয়েছিল একটি টেলিকম কোম্পানি। কিন্তু বোর্ডের অনুমতি না পাওয়ায় সেবার চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারেননি তামিম।

কিছুদিন আগে ১১ দফা (পরবর্তীতে ১৩ দফা) দাবিতে ধর্মঘট ডেকেছিলেন দেশের ক্রিকেটাররা। বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপন শুরুতে দাবিগুলো নিয়ে বেশ হার্ডলাইনে ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি ক্রিকেটারদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ক্রিকেটাররাও দাবিতে অটল ছিলেন। দুই পক্ষের অবস্থান বিপরীতমুখী হওয়ায় প্রায় ৪৮ ঘণ্টা বন্ধ ছিল দেশের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম। তবে এই অচলাবস্থা কেটেছে।

ক্রিকেটারদের ধর্মঘটে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সাকিব আল হাসান। পরে তিনি নিজেই জানিয়েছেন, বিসিবি’র সঙ্গে দাবি-দাওয়া নিয়ে তাদের আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে, তারা মাঠে ফিরবেন। আসন্ন ভারত সফরকে সামনে রেখে এরই মধ্যে মাঠের অনুশীলনে ফিরেছেন ক্রিকেটাররা। কিন্তু সাকিবকে দলের সঙ্গে যোগ দিতে দেখা যায়নি। এই নিয়ে অনেক আলোচনা চলছে ক্রিকেট পাড়ায়।

ভারত সফরে ৩টি টি-টোয়েন্টি ও ২টি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। স্বাভাবিকভাবেই দুই ফরম্যাটের অধিনায়ক সাকিবকে কন্ডিশন ক্যাম্পে দেখতে পাওয়ার কথা। কিন্তু প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো, পেস বোলিং কোচ চার্ল ল্যাঙ্গাভেল্ট ও স্পিন বোলিং কোচ ড্যানিয়েল ভেট্টোরিসহ দলের প্রায় সবাই এলেও তার দেখা পাওয়া যায়নি। কেন আসেননি সাকিব, তার জবাব এখনও অজানা।