বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

টুইটারে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন বন্ধ হচ্ছে

Advertisements

বিশ্বব্যাপী সব ধরনের রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে টুইটার।

আগামী মাস থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে জানিয়ে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই সোশাল মিডিয়া কোম্পানি বলেছে, রাজনৈতিক বার্তা জনগণের কাছে এত দ্রুত পৌঁছানোর সুযোগ টাকার বিনিময়ে কিনতে পারা উচিৎ নয়, তা অর্জন করে নেওয়া উচিৎ।

রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন বিষয়ে টুইটার যে এরকম কঠোর অবস্থান নেবে তা আন্দাজ করে উঠতে পারেননি বিশ্লেষকরা। সিদ্ধান্তটি নেওয়ার পর দিনে শেষ ভাগে টুইটারের শেয়ার দর কমেছে ১.৯ শতাংশ। আসছে ২২ নভেম্বর থেকেই টুইটার প্ল্যাটফর্মে কার্যকর হবে নিষেধাজ্ঞাটি। — খবর রয়টার্সের।

এদিকে, আসন্ন মার্কিন নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে এমন রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন প্রচারের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে ইতিমধ্যেই সমালোচিত হয়েছে টুইটার প্রতিদ্বন্দ্বী ফেইসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো।

২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব রাখার পর ফেইসবুক জানিয়েছিল, তথ্য সত্যতার ব্যাপারে আরও সতর্ক হবে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ‘ফেইসবুকে প্রচারিত রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনগুলোর তথ্য সত্যতা যাচাই করা হবে না।’ ফেইসবুকের এ সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং সেনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনের মতো ডেমোক্রেট প্রার্থীরা।

জো বাইডেনের নির্বাচনী প্রচারণা শিবিরের পক্ষ থেকে পাঠানো এক ইমেইল বার্তায় প্রচারণা শিবিরটির উপ যোগাযোগ পরিচালক বিল রুসো লিখেছেন, “বিজ্ঞাপনের নামে এ ধরনের ‘আবোল-তাবোল’ বক্তব্য প্রচার না করার যে সিদ্ধান্তটি টুইটার নিয়েছে, আমরা সেটিকে সমর্থন জানাই।”

তবে, টুইটারের এ সিদ্ধান্তটিকে মোটেও ভালোভাবে নিতে পারেনি ট্রাম্প পুনঃনির্বাচনী প্রচারণা শিবিরের ব্যবস্থাপক ব্র্যাড পারস্কেল। তিনি বলছেন, ‘এটি রক্ষণশীলদের চুপ করিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত’ এবং টুইটার শেয়ার মালিকদের জন্য ‘খুবই বেকুবি সিদ্ধান্ত”।

বিষয়গুলো নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি টুইটার মুখপাত্র।

টুইটারের রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন বন্ধের বিষয়টিকে চূড়ান্ত সমাধান হিসেবে দেখছেন না গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইমার্কেটারের জ্যৈষ্ঠ বিশ্লেষক জ্যাসমিন এনবার্গ। তিনি বলেছেন, “এত কিছুর পরেও কিন্তু জনসাধারণ, রাজনীতিবিদ এবং বিজ্ঞাপন দাতারা মাধ্যমটিতে রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। এতে ভুল তথ্য ছড়ানোর ব্যাপারে কিন্তু কোনো সমাধান আসেনি।”

এ প্রসঙ্গে লস অ্যাঞ্জেলস-ভিত্তিক স্বাধীন বিজ্ঞাপনদাতা প্রতিষ্ঠান হারম্যান ডিজিটাল এলএলসি’র প্রেসিডেন্ট ডেভিড হারম্যান বলেছেন, “বিজ্ঞাপনবিষয়ক নিষেধাজ্ঞার কারণে মূল নির্বাচনী প্রচারণার কোনো ক্ষতি হবে না, ক্ষতি হবে এর উপর নির্ভর করে থাকা স্থানীয় বিজ্ঞাপন দাতাদের।”