লাইফস্টাইল

ফ্ল্যাট কেনার আগে যা মাথায় রাখা দরকার

Advertisements

স্বল্প খরচের মধ্যে, সাধ ও সাধ্যের মিল রেখে নাগরিক সুবিধা উপভোগ করতে অনেকেই ঝুঁকছেন ফ্ল্যাটের দিকে। তবে ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে কিছু বাড়তি সতর্কতা আবলম্বন করা দরকার। যেমন-

স্থান: প্রথমেই মাথায় রাখতে হবে পছন্দের লোকেশন বা স্থান। যে এলাকায় ফ্ল্যাট কিনতে চাচ্ছেন তার থেকে আপনার অফিস বা ব্যবসায়ের দূরত্ব যাচাই করে নিন। এছাড়া পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার (বাস/ট্রেন স্টেশন) সুবিধা, নাগরিক সুবিধার (হাসপাতাল, ব্যাংক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার, পার্ক, খেলার মাঠ) সহজলভ্যতা রয়েছে কিনা তাও দেখে নেওয়া উচিত। যে লোকালয়ে ফ্ল্যাটটি নিতে যাচ্ছেন সেখানকার নিরাপত্তা সম্পর্কেও নিশ্চিত হতে হবে। আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও দূষণ মুক্ততাও বিবেচনায় রাখা উচিত। আর বাজেটের কথা মাথায় রেখেই স্থান নির্বাচন করুন।

মালিকানার ধরন: ফ্ল্যাটটি কার থেকে কিনছেন তাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। আমাদের দেশের ফ্ল্যাটগুলো সাধারণত ব্যক্তি, ডেভেলপার এবং ব্যক্তি ও ডেভেলপারের যৌথ মালিকানায় হয়ে থাকে। ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ফ্ল্যাট কেনার সময় অবশ্যই চেষ্টা করবেন প্রথম শ্রেণির কোনো ডেভেলপার নির্বাচন করার। একটু বেশি খরচ হলেও এদের থেকে ফ্ল্যাট কেনার বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অভিজ্ঞতা, জনবল দক্ষতা, কাজের তত্ত্বাবধায়ন, উন্নত কাঁচামালের ব্যবহার, অসাধারণ স্থাপত্যশৈলী, হস্তান্তর পরবর্তী সেবা ও ইন্সটলমেন্ট সুবিধা। অপরদিকে, ব্যক্তি মালিকানার কোনো ফ্ল্যাট কিনলে তুলনামূলক সস্তা দাম ছাড়া আর বিশেষ কোনো সুবিধা নেই।

ফ্ল্যাটের আকার ও তলা: পরিবারের সদস্য সংখ্যা, ফার্নিচারের বিন্যাস ও রুচিবোধ বুঝে ফ্ল্যাট আকার নির্বাচন করা উচিত। ভবনের কততম তলায় কিনতে যাচ্ছেন সেটাও মাথায় রাখা দরকার। পছন্দের ফ্ল্যাটটি যদি হয় একদম উপরের তলায়, তাহলে গ্রীষ্মের তাপে কষ্ট পেতে পারেন। তবে অনুমতি সাপেক্ষে ছাদটিকে সুন্দর করে সাজিয়ে নিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন। পছন্দে যদি থাকে দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাট, সেক্ষেত্রে ভবনের নিরাপত্তার বিষয়টি ভালোভাবে দেখে নিন। এছাড়াও প্রত্যেক তলায় কয়টি করে ফ্ল্যাট আছে সেটিও বিবেচনা করে দেখা দরকার। প্রতি তলায় একটি করে ফ্ল্যাট থাকলে সিঁড়ি ও লবির অংশটুকু নিজের মতো করে সাজিয়ে রাখা সম্ভব।

ভবনের সুযোগ-সুবিধা: এখনকার অ্যাপার্টমেন্ট বা কনডোমিনিয়াম-গুলোতে বেশ কিছু আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ব্যায়ামাগার, সুইমিং পুল, কমিউনিটি স্পেস, শিশুদের খেলার জায়গা, পার্কিং/গেস্ট-পার্কিং, একাধিক স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা, জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা, সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ। এছাড়াও ভবনের বাহ্যিক সৌন্দর্য ও কোন দিকে মুখ করা তাও বিবেচনা করে দেখুন। বাংলাদেশে দক্ষিণমুখী ফ্ল্যাটের চাহিদা সবসময়ই বেশি।

অন্যান্য

● সময় নিন। পরিচিত জনের মধ্যে যারা ইদানিং অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছে, তাদের সঙ্গে আলাপ করে খুঁটি-নাটি বিষয়গুলো জেনে নিন।

● যে এলাকায় ফ্ল্যাট কিনতে চাচ্ছেন সেখানকার বাজারমূল্য যাচাই করে নিন।

● ফ্ল্যাটটি পুনরায় বিক্রির ইচ্ছে থাকলে সেই অনুযায়ী স্থান নির্বাচন করুন ও ফ্ল্যাটের যত্ন নিন।

● পুরাতন ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে ভবনের অন্যান্য ফ্ল্যাট মালিক ও বাসিন্দাদের সম্পর্কে জেনে নিন।

● ফ্ল্যাট ক্রয়ের চুক্তিপত্রটিও একাধিকবার ভালো করে পড়ে নিন।