দেশ জুড়ে

৪৮ ঘণ্টা পর উদ্ধার হলো শিশু ওয়াজেদের লাশ

Advertisements

নারায়ণগঞ্জের বাবুরাইলে ধসে পড়া ভবনের নিচ থেকে শিশু ওয়াজেদের (১২) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ধসে পড়ার ৪৮ ঘণ্টা পর ভবনটির নিচে চাপা পড়া অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল।

মঙ্গলবার দুপুর ২টায় প্রথমে ওয়াজেদের লাশটি ধসে পড়া ভবনের নিচে সনাক্ত করা হয়। সনাক্ত করার এক ঘণ্টারও বেশি সময় পর লাশটি তুলে আনা হয়। ভবনের নিচে চাপা পড়ে ওয়াজেদের মুখমন্ডল থেঁতলে গেছে। লাশে পচন ধরে গেছে।

ওয়াজেদের লাশ উদ্ধারের পর আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্ধার অভিযান শেষ করে ফায়ার সার্ভিস। ওয়াজেদের লাশ পেয়ে বাবা-মাসহ আত্মীয়-স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় ঘটনাস্থলে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। নিহত ওয়াজেদ ওই এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে।

গত রোববার বিকেলে ভবনটি ধসে পড়লে তাৎক্ষণিক মারা যায় ওয়াজেদের খালাত ভাই সোয়েব। সোয়েব ও ওয়াজেদ সমবয়সী এবং স্থানীয় সানরাইজ কিন্ডার গার্টেনের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

এদিকে ওই ঘটনায় নিহত সোয়েবের মামা মো. রনি বাদি হয়ে মঙ্গলবার ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় বাড়ির মালিক, জেবুন্নেচ্ছা, বাবু, শিউলি, আজাহার হোসেন ও সুমনকে আসামি করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন বলেন, আসামিরা সম্পর্কে একে অপরের ভাই বোন।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, ঘটনার পর থেকে শিশু ওয়াজেদ নিখোঁজ ছিল। মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে শিশুটির অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়। শিশুটি ধসে পড়া ভবনের নিচতলার একটি পিলারের নিচে চাপা পড়ে ছিল। লাশ উদ্ধার করে শিশুটির পরিবারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপরই উদ্ধার অভিযান শেষ ঘোষণা করা হয়। নিখোঁজ শিশুটির লাশ উদ্ধার আমাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ ছিল।

উল্লেখ্য, গত রোববার বিকেলে হঠাৎ করেই নগরের বাবুরাইল শেষ মাথায় কেউট্টার বাড়ি (বড় বাড়ি) এলাকায় এইচএম ম্যানশন নামে ৪ তলা ভবনটি ধসে পড়ে। ঘটনার দিন সোয়েব নামে এক স্কুল শিক্ষার্থী নিহত হয়। আহত হয় ৪ জন। নিখোঁজ ছিল অপর স্কুল শিক্ষার্থী ওয়াজেদ। এ ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রেহেনা আক্তারকে প্রধান করে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৮ নভেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন।