জাতীয়

নিহতদের পরিবার প্রতি লাখ টাকা, আহতরা পাবেন দশ হাজার

Advertisements

তূর্ণা নিশীথার চালককে সাময়িক বহিষ্কার করেছে রেল মন্ত্রণালয়। রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন মঙ্গলবার সকালে তাকে দায়ী করে ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে এ ঘোষণা দেন। এসময় তিনি নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ১ লাখ টাকা এবং আহতদের ১০ হাজার টাকা দেয়ার ঘোষণা দেন। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলেন জেলা প্রশাসক।

অপরদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১৬ জনের মধ্যে ৫ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। নিহতদের হাতের আঙুলের ছাপ নিয়ে মঙ্গলবার সকালে তাদের পরিচয় শনাক্ত করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের সদস্যরা।

নিহতদের মধ্যে যে পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া গেছে, তারা হলেন- হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার মদনমোরাদ এলাকার আইয়ূব হোসেনের ছেলে আল-আমিন (৩৫), আনোয়ারপুর এলাকার মো. হাসানের ছেলে আলী মো. ইউসূফ (৩৫), চুনারুঘাট উপজেলার পীরেরগাঁও এলাকার সুজন (২৪), চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজাগাঁও এলাকার মজিবুর রহমান (৫০) ও তার স্ত্রী কুলসুমা (৪২)।

সোমবার দিনগত রাত তিনটার দিকে কসবা উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর থেকে চট্টগ্রামের সঙ্গে সিলেট ও ঢাকার রেলযোগাযোগ ৮ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর আবার চালু হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. শাহ আলম আরটিভি অনলাইনকে জানান, দুর্ঘটনায় আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এরমধ্যে ৫৭ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। তার মধ্যে কুমিল্লায় ১২ জন, ঢাকায় ৩ জন, আশুগঞ্জ ১০ জন, আখাউড়ায় ২ জন, কসবায় ২ জন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৮ জন।

আখাউড়া রেলওয়ে থানা পুলিশের ওসি শ্যামল কান্তি দাস জানান, সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেস মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনে আসামাত্রই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে দুই ট্রেনেরই কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উদয়ন এক্সপ্রেসের মাঝ বরাবর দুটি বগি দুমড়ে-মুচড়ে রয়েছে। সেখানে কেউ আটকে পড়ে আছে কিনা, তা বোঝার চেষ্টা করছেন উদ্ধারকর্মীরা।