লাইফস্টাইল

নতুন ফ্যাশন ট্রেন্ড: লম্বা ঝুল আর ঢিলেঢালা কাপড়ের ফ্যাশন আসছে শিগগির?

Advertisements

মাটি ছোঁয়া জামা, পা-ঢাকা পাজামা বা প্যান্ট এবং বড় আকারের জাম্পার – যদি ভাবেন এটি ক্রিসমাসের পোশাক পরিকল্পনার তালিকা, তাহলে ভুল ভাবছেন।

আমরা এখনকার চলতি ‘মডেস্ট ফ্যাশন’ বা শালীন ফ্যাশন নিয়ে কথা বলছি।

আপনি যদি এখনো এ বিষয়ে শুনে না থাকেন, তাহলে জেনে রাখুন এর মূল ব্যাপারটাই হলো একটু ঢেকেঢুকে কাপড় পরা, যার চল নতুন করে পুরো দমে আসতে যাচ্ছে আবার।

শালীনভাবে, কিন্তু ফ্যাশন সম্মত পোশাক পড়ার ব্যাপারটি মুসলিম তরুণীদের মধ্যে ভীষণ জনপ্রিয়।

কিন্তু এখন বিষয়টি আর নির্দিষ্ট কোন ধর্মে বা বিশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আর বর্তমানে এই ফ্যাশন আকৃষ্ট করেছে অনেককে।

২১ বছর বয়সী আশা মোহামুদ একজন শালীন ব্লগার এবং মডেল, ইনস্টাগ্রামে যার ২৭ হাজার ফলোয়ার রয়েছে।

রেডিও ওয়ান নিউজবিট অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, শালীন ফ্যাশনের ব্যাপকতা এখন বেড়েছে।

“আমার তো মনে হয় নারীরা এখন আর পুরুষের চোখে সেক্সি বা আকর্ষণীয় হবার জন্য পোশাক পড়েনা, বরং নিজের চোখে ভালো দেখাতে চান তারা। হয়ত আগের মত পুশ-আপ অন্তর্বাস পড়তে দেখবেন না তাদের। তারা হয়ত কেবল একটা টু-পিস স্যুট পড়ে বেরুবেন ।”

 

ফ্যাশন ব্লগার জোডি ম্যারিয়ট-বেকার বলেছেন, সামাজিক মিডিয়া এবং সমাজের পরিবর্তিত ধ্যান ধারণার কারণে মানুষ এখন শালীন কাপড় পড়তে চায়।

তিনি মনে করেন, সাধারণ কাজ কিংবা আনুষ্ঠানিক প্রয়োজনে বা কাজে বেরুতে হলেও এখন শালীন পোশাকই পছন্দ করে লোকে।

মানুষের রুচির ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। আর সেই পরিবর্তন কেবল ব্লগাররা নন, অনেক ব্র্যান্ডেরও নজরে পড়েছে।

ব্রিটিশ ব্র্যান্ড জন লুইস এর সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে দেখা গেছে, ক্রেতাদের কাছে দৈর্ঘ্যে বেশি এবং ঢোলা কাপড়ই এখন বেশি পছন্দ।

এ বছরে প্রতিষ্ঠানটি ‘মিডি ড্রেস’ বা মাঝারি দৈর্ঘ্যের পোশাকের, যা হাঁটুর নিচ পর্যন্ত বা তার চেয়ে একটু বেশি লম্বা হয়, তার বিক্রি ১৫২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এছাড়া গোড়ালি পর্যন্ত লম্বা পোশাকের বিক্রি বেড়েছে ৩৩ শতাংশ।

 

এমন কাপড়ের চাহিদা কেবল জন লুইসের একারই বাড়েনি, অন্য প্রতিষ্ঠানেরও বেড়েছে।

মার্কস অ্যান্ড স্পেনসার এবং অ্যাসোস নামের অন্য নামী প্রতিষ্ঠানগুলোরও শালীন পোশাকের বিক্রি বেড়েছে।

যারা নামের পোশাকের কথা মনে আছে? ইন্টারনেটে ব্যাপক আলোচিত হয়েছিল যে পোশাক?

অনেক ব্লগারের মতে লম্বা এবং ঢোলা আকারের জন্য সেটিও মডেস্ট ফ্যাশন বা শালীন ফ্যাশনের একটি নমুনা হবে।

আশা নামের একজন মুসলমান তরুণী মনে করেন, মডেস্ট ফ্যাশন একেকজনের জন্য একেক রকম।

“আমি খাটো স্কার্ট পড়লে কেউ সেটাকে শালীন ভাববে না, কিন্তু আমি এর নিচে একটা ট্রাউজার পড়েছি।

শালীন পোশাক পরার জন্য এখন আর কেবল মুসলমান হবার দরকার নেই। বিষয়টা কেবল কোন ধর্মের জন্য নির্দিষ্ট নয়। এটাই এখন নতুন ধারা বিশ্বের, নতুন ট্রেন্ড।”

 

এদিকে, ব্লগার জোডি একে দেখেন ‘অন্তহীন সময়ের জন্য চলনসই, বাহারি এবং ঢোলা হলেও নজরকাড়া’ হিসেবে।

আর সেজন্য শীতকাল একেবারে আদর্শ সময়।

এখন পুরো পৃথিবীতে ফ্যাশন জগতে যে ধরণের পরিবর্তন আসছে, তাতে কেবল শীতকাল নয়, বছর জুড়েই মানুষ একটু বড়সড় ঢোলা আর আরামদায়ক জামাকাপড় পড়তে পছন্দ করেন।

“এরকম কাপড়ে আমি খুবই আত্মবিশ্বাস এবং আরাম পাই। আমি যতই খাই না কেন আপনি আমার উঁচু হয়ে থাকা পেট দেখতে পাবেন না।”

ব্রিটেনে এখন এটি এতই আলোচিত বিষয় যে সেখানে একটি মডেল এজেন্সি আছে, যারা শালীন ফ্যাশনের কাপড় পড়েন এমন মডেলদের নিয়ে কাজ করছে।

উমামা মডেলস নামের প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শাম্মি হামৌদা মনে করেন ২০২০ সালে এই ফ্যাশন মেইনস্ট্রিম ফ্যাশন হিসেবে বিশ্ব দখল করবে।

 

এক বছর আগে যখন তিনি ব্যবসা শুরু করেন, তখন তার মাত্র চারজন মডেল ক্লায়েন্ট ছিল, কিন্তু এখন তিনি ৬০জন মডেলের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

“১৯৫০ এর দশকে ব্রিটেনে এটাই ছিল স্বাভাবিক, শালীনভাবেই পোশাক পরতেন নারীরা। সবার জামার ঝুল এবং হাতা ছিল লম্বা।”

তবে, বিক্রেতারা বলছেন, লম্বা জামার কদর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাটো আর আঁটসাঁটো পোশাকের চাহিদা এখনো কমে যায়নি।

আর জোডি মনে করেন, ফ্যাশনে বৈপরীত্য সব সময় ছিল, সামনের দিনেও থাকবে।