Advertisements

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে সরকার বাংলাদেশে থেকে বাইসাইকেল আমদানির ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ সফরের দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে বৈঠকের সময় তিনি এ আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী প্রস্তাব করেছে, বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা সেখানে গিয়ে যৌথভাবে বিনিয়োগও করতে করতে পারে।

এছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় বাইসাইকেল তৈরির কারখানা গড়ে তুলতে পারেন বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা। তাতে করে পশ্চিমবঙ্গে আমদানি খরচ কমে আসবে।

বাংলাদেশের উদ্যোক্তা এবং বাণিজ্য বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর এসব প্রস্তাব বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য কতটা বাস্তব সম্মত সেটা ভেবে দেখার বিষয় আছে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা বিআইডিএস-এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো নাজনীন আহমেদ বলেন, ভারতে রপ্তানির বিষয়টি সামগ্রিক রপ্তানি কৌশলের একটি অংশ হতে পারে। কিন্তু সেটি একমাত্র কৌশল নয়।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের বাইসাইকেল তো শুধু ভারতে রপ্তানি হবে না। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়। বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা যদি জাপানে রপ্তানি করেন, তাহলে জাপানে গিয়ে ফ্যাক্টরি দেবেন নাকি?”

তিনি বলেন, বাইসাইকেল রপ্তানির বিষয়টিকে সামগ্রিক দৃষ্টিতে বিবেচনা করতে হবে।

বাংলাদেশের একজন শীর্ষ উদ্যোক্তা কে বলেন, সীমান্ত এলাকায় বাইসাইকেল কারখানা স্থাপন করার বিষয়টি আদৌ বাস্তবসম্মত কিনা সেটি ভেবে দেখার বিষয় আছে।

“বাংলাদেশের গার্মেন্টসসহ নানা পণ্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে কারখানা কোথায় অবস্থিত সেটি বিবেচ্য বিষয় নয়,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন সে উদ্যোক্তা।

গত কয়েক বছর যাবত বাইসাইকেল রপ্তানিতে বাংলাদেশ ভালো করছে বলে মনে করেন উদ্যোক্তারা।

 

বাইসাইকেল রপ্তানির ভালো সম্ভাবনা রয়েছে । বর্তমানে ইউরোপের ১৮টি দেশে বাংলাদেশের বাইসাইকেল আমদানি করা হয় বলে উল্লেখ করেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নভূক্ত দেশগুলো তাদের চাহিদার ১১ শতাংশ বাইসাইকেল বাংলাদেশ থেকে আমদানি করে থাকে।

ভারত বাংলাদেশ থেকে বাইসাইকেল আমদানি করতে চাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণটি হচ্ছে উৎপাদন খরচ।

“কোন একটি দেশ সেই পণ্যটিই আমদানি করতে চায় যখন তারা দেখে যে একই পণ্য তৈরি করতে তাদের খরচ ও বিক্রয় মূল্য বেশি হবে,” বলছিলেন ফাহমিদা খাতুন।

বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা বলছেন, উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় বাংলাদেশের তৈরি বাইসাইকেল বিশ্বের যে কোন দেশে রপ্তানি হতে পারে। সেক্ষেত্রে ভারত একটি ভালো বাজার।

বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান প্রাণ- আরএফএল গ্রুপের তৈরি ‘দুরন্ত বাইসাইকেল’ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়।

 

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী বলেন, “আমরা সর্বপ্রথম বাইসাইকেল রপ্তানি শুরু করেছিলাম যুক্তরাজ্যে। সেটা আমাদের প্রধান মার্কেট ছিল। তারপর আমরা জার্মানিতে রপ্তানি করলাম, ফ্রান্সে এবং বেলজিয়ামেও রপ্তানি করলাম।”

বাংলাদেশ থেকে বর্তমানে প্রতিবছর ১০০ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের বাইসাইকেল রপ্তানি করা হয় বলে মি: চৌধুরী উল্লেখ করেন।

পৃথিবীর বাইসাইকেলের বাজার এক সময় চীনের দখলে ছিল। এর পাশাপাশি কম্বোডিয়াও কিছু রপ্তানি করতো।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, উন্নত দেশগুলোতে বাইসাইকেলের বাজার যে আরো সম্প্রসারিত হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। এর একটি বড় কারণ হচ্ছে পরিবেশগত।

“পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশে এখন পরিবেশসম্মত যানবাহনকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। সেক্ষেত্রে বাইসাইকেল সবচেয়ে পরিবেশ বান্ধব। এসব দেশে বাইসাইকেলের চাহিদা যত বাড়বে বাংলাদেশের রপ্তানির বাজারও তত সম্প্রসারিত হবে,” বলছিলেন অর্থনীতিবিদ ফাহমিদা খাতুন।

উদ্যোক্তারা বলছেন, ইউরোপের বাজারে বাইসাইকেল রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জিএসপি সুবিধা পেয়েছে। এ বিষয়টির কারণে সাইকেল উৎপাদনের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তারা এগিয়ে এসেছে।

আহসান খান চৌধুরী আশা করছেন, অচিরেই বাংলাদেশের তৈরি বাইসাইকেল আমেরিকার বাজারে সহজলভ্য হবে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

By Abraham

Translate »