আইন-আদালত

জঙ্গির মাথায় আইএসের টুপি গেল কীভাবে?

Advertisements

চাঞ্চল্যকর ও বহুল আলোচিত গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার ঘটনায় রায় দিয়েছেন ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। রায়ে সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়।

তবে এসময় আসামি রাফিকুল ইসলাম রিগ্যানের মাথায় মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের টুপি ছিল। কীভাবে তার মাথায় টুপি গেল তা জানতে ইতোমধ্যে গোয়েন্দারা কাজ শুরু করেছেন।

রায়শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গণমাধ্যমকে জানান, রিগ্যানের মাথায় আইএসের টুপি কীভাবে এলো তা তদন্ত করা দরকার। কেননা, একজন আসামি আদালতে এভাবে আসতে পারে না।

এ বিষয়ে বুধবার বিকেলে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারের প্রধান মাসুদুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। টুপিটা সে কারাগার থেকে আনল কি না, আর আনলেও সেটা পুলিশ কেন দেখল না? কেন ব্যবস্থা নেয়নি, সে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে।’

একটি অসমর্থিত সূত্র জানায়, আসামিরা কারাগারে থাকার সময় টুপি সঙ্গে রাখতে পারে। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে শরীরের কোথাও কিংবা পোশাকের পকেটে টুপিটি রাখে। কারা আসামির সঙ্গে কারাগারে দেখা করতে এসেছিল। তারা কীভাবে এসেছিল এবং বেরিয়ে গেছে, আদৌ তাদের সঙ্গে কারাগারে কেউ দেখা করেছেন কি না এ বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে কারা সংশ্লিষ্টরা। সেক্ষেত্রে টুপি রহস্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে তারা ধারণা করছে।

এদিকে আদালতে রিগ্যানের টুপি পরার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ঝড় তুলেছে। অনেকেই প্রশ্ন করছেন, একজন এরকম দুর্ধর্ষ অপরাধী কারাগারে থেকেও কীভাবে তার মতাদর্শের অনুসরণ ঘটাতে পারে। এজন্য অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার এবং এর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের সনাক্ত করতে হবে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রিয় কারাগারের জেলার মাহাবুবুল ইসলাম রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘কারাগারে আসামির টুপি রাখার সুযোগ নেই। আমরা সেভাবেই তাদেরকে আদালতে নিয়ে যাই।’

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজানে সশস্ত্র জঙ্গি হামলা হয়। জঙ্গি হামলায় দেশি-বিদেশি ২০ জন প্রাণ হারান। প্রায় দুই বছর তদন্ত শেষে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিচারক আসামি রিগ্যানসহ সাত জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ড দেন।