Advertisements

ব্রিসবেনের মত অ্যাডিলেড টেস্টেও পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া সেঞ্চুরি করেছেন অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার ও মার্নাস লাবুশেন। দু’জনের জোড়া সেঞ্চুরিতে দিবা-রাত্রির টেস্টের প্রথম দিন শেষে শক্ত অবস্থায় অস্ট্রেলিয়া। ৭৩ ওভারে ১ উইকেটে ৩০২ রান করেছে অসিরা। ওয়ার্নার ১৬৬ ও লাবুশানে ১২৬ রানে অপরাজিত আছেন। সিরিজের প্রথম টেস্টে ওয়ার্নার ১৫৪ ও লাবুশানে ১৮৫ রান করেছিলেন।
সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্বান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। বল হাতে পেয়েই অস্ট্রেলিয়াকে চেপে ধরার পরিকল্পনা করেন পাকিস্তানের দুই ওপেনিং পেস বোলার মোহাম্মদ আব্বাস ও শাহিন শাহ আফ্রিদি। প্রথম তিন ওভারে অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার ওয়ার্নার ও ররি বার্নসকে চাপে রেখেছিলেন তারা। ওয়ার্নারের বাউন্ডারিতে স্কোর বোর্ডে মাত্র ৪ রান উঠে।
পরের ওভারে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বোধনী জুটিতে ভাঙ্গন ধরান আফ্রিদি। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ৪ রানে আউট হন বার্নস।
বার্নসের আউট যেন সৌভাগ্য বয়ে আনে অস্ট্রেলিয়ার। কারন এরপর পাকিস্তানের বোলারদের উপর আধিপত্য বিস্তার করে খেলেন ওয়ার্নার ও লাবুশেন। প্রথম সেশনে অবিচ্ছিন্ন থেকে দলকে ৭০ রান এনে দেন এ জুটি। তবে এই সেশনে বৃষ্টির কারণে দু’ঘন্টা খেলা বন্ধ ছিলো।
প্রথম সেশনের মত দ্বিতীয় সেশনেও ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছিলেন ওয়ার্নার ও লাবুশেন । এতে বাড়তে থাকে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর। আর এই সেশনে দু’জন হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন। ১ উইকেটে ১৩৯ রান নিয়ে দ্বিতীয় সেশন করতে পারে অস্ট্রেলিয়া। এসময় ওয়ার্নার ৭২ ও লাবুশেন ৬০ রানে অপরাজিত ছিলেন।
দিনের শেষ সেশনে টেস্ট ক্যারিয়ারের ২৩তম সেঞ্চুরির স্বাদ নেন ওয়ার্নার। নিজের মুখোমুখি হওয়া ১৫৭তম বলে ১ রান নিয়ে তিন অংকে পা দেন তিনি।
ওয়ার্নারের সেঞ্চুরিতে আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় অন্যপ্রান্তে থাকা লাবুশেনেরও। মোকাবেলা করা ১৬৯ বলে মিড উইকেট থেকে ২ রান নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন লাবুশেন। টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম ‘কনকাশন সাব’ হিসেবে খেলতে নামা লাবুশেন পরিণত হয়েছেন দলের অপরিহার্য সদস্য হিসেবে। এখন অবধি ১১ ম্যাচের ক্যারিয়ারে ২টি সেঞ্চুরি ও ৫টি হাফ-সেঞ্চুরি করেছেন তিনি।
সেঞ্চুরির পর নিজেদের ইনিংস বড় করেছেন ওয়ার্নার-লাবুশানে। ব্যাট হাতে নিজেদের সেরাটাই দিয়েছেন তারা। দিন শেষে ২৯৪ রানে অবিচ্ছেদ্য আছেন ওয়ার্নার-লাবুশেন। যার মাধ্যমে ২১ বছরের পুরনো রেকর্ড ভাঙ্গেন এ জুটি। ১৯৯৮ সালে পেশোয়ারে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় উইকেটে ২৭৯ রান করেছিলেন মার্ক টেইলর ও জাস্টিন ল্যাঙ্গার।
ওয়ার্নার-লাবুশেনের নের আজকের অবিচ্ছিন্ন ২৯৪ রান পাকিস্তানের বিপক্ষে যেকোন উইকেটে তৃতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটিও। পাকিস্তানের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ রানের জুটি ৩৫২ রান। ২০১০ সালে হোবার্টে চতুর্থ উইকেটে ঐ স্কোর করেছিলেন রিকি পন্টিং ও মাইকেল ক্লার্ক।
দ্বিতীয় উইকেটে নতুন রেকর্ড গড়ে ওয়ার্নার ১৬৬ ও লাবুশেন ১২৬ রানে অপরাজিত আছেন। অ্যাশেজের ১০ ইনিংসে ৯৫ রান করা ওয়ার্নার ২২৮ বল মোকাবেলা করে ১৯টি চারে ও লাবুশেন ২০৫ বল মোকাবেলা করে ১৭টি চারে নিজেদের ইনিংস সাজান। পাকিস্তানের আফ্রিদি ৪৮ রানে ১ উইকেট নেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
অস্ট্রেলিয়া : ৩০২/১, ৭৩ ওভার (ওয়ার্নার ১৬৬*, লাবুশানে ১২৬*, আফ্রিদি ১/৪৮)।

By Abraham

Translate »