Advertisements

গাড়ি ছুটছে দু’পাশের সবুজ আর উঁচু পাহাড় মাড়িয়ে। এভাবেই চললো ৪৯ কিলোমিটার। ১৮শ ফুট উঁচুতে ওঠার পর স্বপ্নের মতো জায়গা। মেঘের ভেলার ফাঁকে সূর্যের উঁকিঝুঁকি, হিমশীতল হাওয়া- সব মিলিয়ে সেখানে পাহাড়ের রং যেন আকাশের মতোই।

বলছিলাম রাঙামাটির সাজেক ভ্যালির কথা। এই দুর্গম জনপদটি এখন আর আগের মতো নেই। উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে গেছে পুরো সাজেক ভ্যালি। সেখানকার মানুষের বিদ্যুৎ ও পানির সমস্যাও মিটিয়ে দিচ্ছে সরকার। খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে ৪৯ কিলোমিটার দূরে ও ১৮শ ফুট উঁচুতে সাজেকে বিদ্যুতের খুঁটি বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে খুঁটিতে তার টাঙানোর কাজ।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে সাজেকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, সাজেক ইউনিয়নের আয়তন ১ হাজার ৭৭১ বর্গকিলোমিটার। সেখানে ৩০ হাজার লোক স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। এছাড়া প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার পর্যটক ভ্রমণ করছেন সাজেক। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য সমাদৃত সাজেক ভ্যালিতে অর্ধশতাধিক রিসোর্ট ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ে ওঠেছে। এ অঞ্চলে শিল্প কারখানাও গড়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে। এজন্য বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অবকাঠামোগত উন্নয়ন অপরিহার্য।

সাজেক ভ্যালি।বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে উন্নয়নের জন্য প্রায় ৫৬৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয় ২০১৭ সালে। প্রকল্পের আওতায় এ তিন জেলায় ১২টি নতুন ৩৩/১১ কেভি সাব-স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে।

এছাড়া বিদ্যমান সাব-স্টেশনগুলোর সংস্কার ও লোড ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। পুরাতন লাইন সংস্কারের পাশাপাশি নতুন করে স্থাপন করা হয়েছে ১ হাজার ৩১০ কিলোমিটার বিতরণ লাইন। এরমধ্যে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে সাজেক পর্যন্ত ৪৯ কিলোমিটার বিদ্যুতের লাইন স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে সাজেকসহ তিন জেলার ৫৬ হাজার নতুন গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে।

By Abraham

Translate »