খেলার খবর

ইমরুলের ফিফটিতে জিতল চট্টগ্রাম

Advertisements

দুজন ভারত সফরে কাটিয়েছেন দুঃসময়। ব্যাটে ছিল না রান। আত্মবিশ্বাস ছিল তলানিতে।

ভারতের পেসারদের দাপটে ব্যাটিংটাই যেন ভুলে বসেছিলেন দুজন! দুস্মৃতি পেছনে ফেলে দুজন জ্বলে উঠলেন বিপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে। দুজনই পেয়েছেন হাফ সেঞ্চুরি। টি-টোয়েন্টি লিগের শুরুটাও হলো দুর্দান্ত।

তবে শেষ হাসিটা হাসতে পারেননি মিথুন। ইমরুলের হাফ সেঞ্চুরিতে তার দল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স জিতেছে অনায়েস। মিথুনের সিলেট থান্ডার প্রথম ম্যাচ হেরেছে ৫ উইকেটে। মিরপুর শের-ই-বাংলায় টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে সিলেট ৪ উইকেট হারিয়ে তোলে ১৬২ রান। জবাবে ৬ বল হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম।

দুই দলের লড়াইটা হয়েছে একপেশে। প্রথম ইনিংসে মিথুনের করা হাফ সেঞ্চুরির জবাবে ইমরুলও হাঁকিয়েছেন হাফ সেঞ্চুরি। তাতেই ম্যাচ জয়। মিথুন হাফ সেঞ্চুরি তোলেন ৩০ বলে। ইমরুল পেয়েছেন এক বল কম খেলে। মিথুন হাফ সেঞ্চুরির আগে মেরেছেন ৫টি ছক্কা, ইমরুল মেরেছেন ৪টি। মিথুন ৪৮ বলে অপরাজিত ৮৪ রানের ইনিংস সাজিয়ে মুখে হাসি নিয়ে ফিরেছিলেন সাজঘরে। কিন্তু ম্যাচ শেষে তার হাসি টেকেনি। ইমরুলের ৩৮ বলে ৬১ রানের ইনিংসে চট্টগ্রাম জয় দিয়ে শুরু করল বিপিএল।

দুই দলের পার্থক্য করেছেন চার্ডিক ওয়ালটন। ৩০ বলে ৪৯ রান করে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন ক্যারিবীয়ান ক্রিকেটার। এছাড়া শুরুতে চট্টগ্রামকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন আভিসকা ফার্ন্দান্দো। ২৬ বলে ৩৩ রান করেন শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার। লক্ষ্য তাড়ায় ৬৪ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর পঞ্চম উইকেটে ইমরুল ও ওয়ালটন দলের হাল ধরেন। দুজন ৮৬ রানের জুটি গড়েন ৫৩ বলে। অভিজ্ঞ দুই ক্রিকেটারের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে চট্টগ্রাম বিপিএলে পেল উড়ন্ত সূচনা।

এর আগে প্রথম ইনিংসে বোলিংয়ের শুরুটা হয়েছিল স্পিন দিয়ে। বাঁহাতি স্পিনার নাসুম বিপিএলের বোলিং উদ্বোধন করেন। দ্বিতীয় ওভারে রনি তালুকদারের হাতে চার হজমের পর তার উইকেট নিয়ে প্রথম সাফল্য পান রুবেল। এরপর জনসন চার্লস ও মিথুন ৪৬ রানের জুটি গড়েন। চার্লসকে ৩৫ রানে বোল্ড করে নাসুম পান প্রথম সাফল্য।

চতুর্থ উইকেটে অধিনায়ক মোসাদ্দেক ও মিথুন ৯৪ রানের জুটি গড়েন। মোসাদ্দেক ইনিংসের শুরু করেছিলেন ধীরগতিতে। প্রথম ১৫ রান করতে খেলেন ১৯ বল। পরের ১১ বলে পৌঁছে যান পঞ্চাশে।

পেসার মুক্তার আলীকে ছক্কা হাঁকিয়ে মিথুনের তাণ্ডব শুরু। এরপর দলীয় ১৩তম ওভারে নাসুমকে হাঁকান তিন ছক্কা। পরের ওভারে নাসির হোসেনকে ছক্কায় উড়িয়ে ফিফটি পূর্ণ করেন মাত্র ৩০ বলে। শেষ ওভারে মোসাদ্দেককে ফিরিয়ে ৯৪ রানের জুটি ভাঙেন রুবেল। ৩৫ বলে একটি করে চার ও ছক্কায় মোসাদ্দেক করেন ২৯ রান। মিথুন শেষ পর্যন্ত ৪৭ বলে ৪ চার ও ৫ ছক্কায় ৮৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। এই ফরম্যাটে তার আগের সেরা ছিল ৮০।

ইনজুরির কারণে এ ম্যাচে খেলতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ। বিস্ফোরক ইমরুল অবশ্য তার অভাব অনুভব করতে দেননি চট্টগ্রামকে।