Advertisements

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় রাজশাহীতে অপহরণ, আটকে রেখে নির্যাতন ও হত্যার মত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বোয়ালিয়ার সাবেক শিবির নেতা মো. আব্দুস সাত্তার ওরফে টিপু সুলতানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে যুদ্ধাপরাধ আদালত।

বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বুধবার আসামির উপস্থিতিতে এ মামলার রায় ঘোষণা করে।

মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে মিলে স্থানীয় যে রাজাকাররা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল, তাদের মধ্যে টিপু সুলতানই কেবল বেঁচে আছেন। একাত্তরের সেই ভূমিকার জন্য এলাকার অনেকে তাকে চেনে টিপু রাজাকার নামে।

১৭৭ পৃষ্ঠার রায়ে আদালত বলেছে, আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা দুটি অভিযোগই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। প্রতিটি অভিযোগেই সর্বসম্মতিক্রমে আসামিকে দেওয়া হয়েছে মৃত্যুদণ্ড।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মোখলেছুর রহমান বাদল তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সাথে একত্রিত হয়ে ইসলামী ছাত্রসংঘ যে আলবদর ও রাজাকার বাহিনী গড়ে তুলেছিল, সে বাহিনী ছিল হিটলারের গেস্টাপো বাহিনীর মত। আজকের রায়ের মধ্য দিয়ে সে কথাগুলোই উঠে এসেছে।”

তিনি বলেন, “আসামির বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ ছিল। তা প্রমাণে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ১৪ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাথে দালিলিক প্রমাণাদি দিয়ে দুটি অভিযোগই আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। ফলে তাদের অপরাধ বিবেচেনা করে আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে; এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।”

অন্যদিকে আসামির পক্ষে রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবী গাজী এমএইচ তামিম বলেন, “এই রায়ে আমার মক্কেল সংক্ষুব্ধ। তিনি এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। আশা করি আপিলে তিনি খালাস পাবেন।”

By Abraham

Translate »