Advertisements

তামিম ইকবালের ফিফটি আর থিসারা পেরেরার অলরাউন্ড নৈপুণ্যে বঙ্গবন্ধু বিপিএলে প্রথম জয় পেয়েছে ঢাকা প্লাটুন। কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সকে ২০ রানে হারিয়েছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে শুক্রবার রাতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৭ উইকেটে ১৮০ রান করেছিল ঢাকা প্লাটুন। এবারের বিপিএলে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ এটিই। জবাবে ৯ উইকেটে ১৬০ রানে থামে কুমিল্লা।

এবারের আসরে প্রথম বোলার হিসেবে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন পেরেরা।

হার দিয়ে বিপিএল শুরুর পর দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম জয় পেল ঢাকা। আর কুমিল্লা জয়ে শুরুর পর এবার হারের স্বাদ পেল।

বড় লক্ষ্য তাড়ায় ঝড়ো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন কুমিল্লার শ্রীলঙ্কান ওপেনার ভানুকা রাজাপাকশে। তবে সেই ঝড় বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। তাকে বোল্ড করে ৩২ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন মাশরাফি। ১২ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় রাজাপাকশে করেন ২৯ রান। পরের ওভারে মেহেদী হাসানকে ছক্কায় উড়াতে গিয়ে ফেরেন আরেক ওপেনার ইয়াসির আলী রাব্বীও (৩)।

তিনে নেমে ঝড় তোলেন সৌম্য সরকার। তাকে থামিয়ে ৫০ রানের জুটি ভাঙেন ওয়াহাব রিয়াজ। ২৬ বলে ৫ চার ও এক ছক্কায় বাঁহাতি ব্যাটসম্যান করেন ৩৫ রান। টিকতে পারেননি সাব্বির রহমান ও প্রথম ম্যাচে ঝড় তোলা দাসুন শানাকা। থিসারা পেরেরার পরপর দুই বলে দুজনই ফেরেন উইকেটকিপারকে ক্যাচ দিয়ে।

এরপর মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনকে সঙ্গে নিয়ে চেষ্টা চালিয়েছিলেন মালান। কিন্তু বল আর রানের ব্যবধান বেড়ে যাওয়ায় পেরে ওঠেনি কুমিল্লা। মালান ৩৬ বলে ৪ চারে করেন ৪০ রান। ২৭ বলে এক চার ও দুই ছক্কায় ৩৭ রান করেন অঙ্কন।

নিজের শেষ ওভারে চারটিসহ চার ওভারে ৩০ রানে ৫ উইকেট নেন পেরেরা। ওয়াহাব ২টি এবং মাশরাফি ও মেহেদী নেন একটি করে উইকেট।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ঢাকার শুরুটা ভালো হয়নি। আফগান অফ স্পিনার মুজিব উর রহমানের করা ইনিংসের প্রথম বলেই এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন এনামুল হক বিজয়। তিনে নামা মেহেদী হাসান দুটি চার মারলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি (১২)।

তৃতীয় উইকেটে বড় জুটি গড়েন তামিম ও লরি ইভান্স। তামিম অবশ্য শুরুতে রানের জন্য সংগ্রাম করছিলেন। স্বাচ্ছন্দ্যে খেলতে পারছিলেন না। প্রথম ১৬ বলে করেছিলেন মাত্র ৭ রান।

তবে ধীরে ধীরে ছন্দ খুঁজে পান বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। এরপর শুরু করেন আক্রমণ। ৪০ বলে পূর্ণ করেন ফিফটি। এরপর ইভান্সকে (২৩) ফিরিয়ে ৭৫ রানের জুটি ভাঙেন দাসুন শানাকা।

তাতেও স্বস্তি ছিল না কুমিল্লার। থিসারে পেরেরা ব্যাটিংয়ে নেমে মুখোমুখি প্রথম পাঁচ বলেই মারেন চারটি চার ও একটি ছক্কা। আবু হায়দার রনির এই ওভার থেকেই আসে ২৩ রান!

শানাকাকে পরপর ছক্কা-চার হাঁকানোর পরের বলে তামিম ফেরেন ৭৪ রানে। ৫৩ বলে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ইনিংসটি সাজান তিনি। প্রথম ম্যাচে তামিম করেছিলেন ৫।

শহীদ আফ্রিদি ব্যর্থ হয়েছেন এদিনও। প্রথম ম্যাচে গোল্ডেন পর এবার করেছেন ৪। শেষ বলে রান আউট হওয়ার আগে একটি ছক্কায় ৯ রান করেন মাশরাফি। আর পেরেরা ১৭ বলে ৭ চার ও এক ছক্কায় ৪২ রানে অপরাজিত ছিলেন।

কুমিল্লার হয়ে শানাকা ও সৌম্য সরকার নেন ২টি করে উইকেট। তবে শানাকা চার ওভারে খরচ করেন ৪৮ রান, সৌম্য ৩৯। মুজিব ১৫ রানে ও রনি ২৯ রানে নেন একটি করে উইকেট।

By Abraham

Translate »